


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুস্তাফিজুর ইস্যু যে এত তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হবে না, তার ইঙ্গিত মিলেছিল শনিবারই। বিসিসিআইয়ের নির্দেশ মেনে কলকাতা নাইট রাইডার্স বাঁ হাতি পেসারকে দল থেকে বাদ দেওয়ার পর তীব্র ক্ষোভ দেখা গিয়েছিল পদ্মাপারে। উঠেছিল ভারত বিরোধী স্লোগান। ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নির্বাচন। সেই ক্ষোভকে কাজে লাগাতে ময়দানে নেমে পড়েছে ইউনুস সরকার। ক্রীড়া মন্ত্রকের নির্দেশে ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফরা ভারতে নিরাপদ নয়, এই অজুহাতে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি অন্যত্র অর্থাৎ শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের জন্য তারা আবেদন জানিয়েছে আইসিসি’কে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা কি বিসিবি’র আবেদনে সাড়া দেবে? টুর্নামেন্ট শুরু ৭ ফেব্রুয়ারি। সূচি অনুযায়ী প্রথম দিনেই বাংলাদেশ ইডেনে খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। ওই ম্যাচের টিকিট বিক্রি, হোটেল বুকিংয়ের কাজ শেষ। হঠাৎ করে সূচি পরিবর্তন বেশ জটিল প্রক্রিয়া। তাছাড়া হাতে সময়ও বেশি নেই। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ খেলবে মোট চারটি ম্যাচ। তার মধ্যে তিনটি কলকাতায়, একটি মুম্বইয়ে। তবে পরিস্থিতি যেদিকে এগচ্ছে, তাতে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বল এখন জয় শাহর আইসিসি’র কোর্টে। এই বিষয়ে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানেই সবপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
সূত্রের খবর, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একাংশ নাকি ভারত থেকে অন্যত্র ম্যাচ সরানোর দাবি জানানোর পক্ষে ছিলেন না। কারণ, তাঁরা জানেন, বিসিসিআইয়ের সঙ্গে সংঘাতে যাওয়া খুবই বিপজ্জনক। কারণ, আইসিসি আর বিসিসিআই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ফলে হাতে-পাতে— দুটোতেই মরতে হবে। যেমন হাল হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের। তাছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে টেস্ট স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বিসিসিআইয়ের বড় ভূমিকা ছিল। প্রাক্তন বোর্ড সভাপতি তথা আইসিসি’র প্রেসিডেন্ট জগমোহন ডালমিয়া অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। ভারতের ক্রীড়া সংগঠনগুলিতে ঘটেছে প্রবল গৈরিকীকরণ। একইভাবে হাসিনাকে উৎখাতের পর ইউনুস সরকারের নেতৃত্বে চলছে প্রবল ভারত বিরোধিতা। সেই উত্তাপেই হাত সেঁকছেন রাজনীতির কারবারিরা। তাই মুস্তাফিজুরকে বলির পাঁঠা বানিয়ে ফায়দা তোলার চেষ্টায় বিভিন্ন মহল।
এদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পদক্ষেপ নিয়ে সিএবি কর্তারা প্রকাশ্যে কিছু বলতে রাজি নন। এক বঙ্গ ক্রিকেট কর্তার বক্তব্য, ‘বিশ্বকাপ আইসিসি’র টুর্নামেন্ট। আয়োজনের দায়িত্বে বিসিসিআই। রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা হিসেবে আমাদের কী-ই বা করার আছে। যা নির্দেশ আসবে, মানা হবে। তবে পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, সল্টলেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের প্র্যাকটিস দেওয়া যাবে না। নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
এদিকে, টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করল বাংলাদেশ। নেতৃত্বে লিটন দাস। সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব সামলাবেন সইফ হাসান। রয়েছেন কাটার স্পেশালিস্ট মুস্তাফিজুর রহমানও।