Bartaman Logo
৩১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দিল্লির রেল মিউজিয়ামে বাঁশের রেল ইঞ্জিন, গণেশের শিল্পকীর্তিতে আপ্লুত চন্দননগর

চন্দননগর থেকে সোজা দিল্লির বিখ্যাত রেলওয়ে মিউজিয়াম। স্বপ্নের লাফ হোক বা শিল্পের স্বীকৃতি, প্রায় অপরিচয়ের অন্ধকারে থাকা গণেশকে আচমকা গণ্যমান্য করেছে

দিল্লির রেল মিউজিয়ামে বাঁশের রেল ইঞ্জিন, গণেশের শিল্পকীর্তিতে আপ্লুত চন্দননগর
  • ৩১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চন্দননগর থেকে সোজা দিল্লির বিখ্যাত রেলওয়ে মিউজিয়াম। স্বপ্নের লাফ হোক বা শিল্পের স্বীকৃতি, প্রায় অপরিচয়ের অন্ধকারে থাকা গণেশকে আচমকা গণ্যমান্য করেছে। কথা হচ্ছে চন্দননগরের গড়ের ধারের বাসিন্দা গণেশ ভট্টাচার্য সম্পর্কে। তাঁর বাঁশের শিল্পকলাকে সম্মানের সঙ্গে স্থান দিয়েছে দিল্লির ন্যাশনাল রেল মিউজিয়াম। বাংলার প্রথম কোনো বিশেষ বাঁশের হস্তশিল্প ওই মিউজিয়ামে স্থান পেল। শুধু তাই নয়, রেল মিউজিয়ামের ৫০ বছর পূর্তি ২০২৭ সালে। তখন মিউজিয়ামের বিশেষ ২ডি বা ৩ডি অলংকরণের কাজ করানো হবে গণেশকে দিয়ে। সেই আশ্বাসও মিলেছে। সরস্বতীর বরপুত্র তিনি বরাবরই। তবে লক্ষ্মীলাভের কপাল ছিল খালি। এবার অন্তত ধনদেবীর ঝাঁপি খুলে যাওয়ার ইঙ্গিতও জুটেছে।

Advertisement

তবে গণেশ বলছেন, তাঁর সম্মানের সঙ্গে গৌরব বেড়েছে বাংলার, চন্দননগরেরও। আর সেই গৌরবগাথা লেখা হয়েছে রেলের ইঞ্জিনে। হ্যাঁ, একদা দীর্ঘ প্রয়াসে জাওয়া বাঁশ বা অসম বাঁশ দিয়ে রেলের ইঞ্জিন গড়েছিলেন হস্তশিল্পী গণেশ। তাঁর গড়ের ধারের অভাবের সংসারে বাঁশের তৈরি সেই মডেল এনেছিল রাজ্য স্তরের সম্মান। সেই খ্যাত মডেলটিই স্থান পেয়েছে রেলের মিউজিয়ামে। মজার কথা, রেলের ওই ইঞ্জিনটি (ডব্লিউবিপি-৪) বর্তমানে প্রায় বাতিলের দলে। কিন্তু তার আছে সমৃদ্ধ ইতিহাস। সেই ইতিহাসকেই বাঁশের শরীরে খোদাই করে নতুন ইতিহাস গড়েছেন গণেশ ভট্টাচার্য। 
তিনি বলেন, নিজের হাতে মিউজিয়ামে সাজিয়ে এসেছিল সেই শিল্পসুষমায় ভরা ইঞ্জিন। রেলকর্তারা খুবই আদর আপ্যায়ন করেছেন। ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণপত্রের সঙ্গে কাজও দেবেন বলেছেন। খুব সম্মানিত বোধ করছি। আমার জীবনের একটি বিশেষ সময়, ২০২৬ সালের জুলাই মাস।
তবে আক্ষেপ আছে গণেশের। এঁদো, প্রায়ান্ধকার ঘরে বসে যে-হাতে তিনি হাওড়া ব্রিজ গড়েন, যে-হাত সাজিয়ে তোলে ভিক্টোরিয়া মেমরিয়াল, তা নিয়ে আক্ষেপ হয়। ঘর বোঝাই হয়ে পড়ে থাকে ‘সোনার স্থাপত্য’, সংসার জুড়ে থাকে অভাবের নীরব জ্বালা। ঘরে দুটি মেয়ে, একটি ছেলে। আছেন স্ত্রী, প্রৌঢ়া মা। তাঁদের স্বাচ্ছন্দ্যের জোগান দিতে পারেন না শিল্পী।
কিন্তু বাঁশ খুঁড়ে শরীর নির্মাণ তাঁর নেশা। তাই আধপেটা খাবার জুটলেও মাথায় ঘুরে বেড়ায় স্থাপত্যের শরীরের নানা বিভঙ্গ। আর তাই ফের হাতে তুলে নেন ছেনি, বাটালি। নীরব নির্মাণের আপ্রাণ চেষ্টায় গড়ে ওঠা দোতলা বাস, হারিয়ে যাওয়া ট্রাম ঘুরে বেড়ায় অভাবের সংসারে। কখনো কখনো অবশ্য আয়ের হাতছানি আসে। সদ্য যেমন কানাডা থেকে চারটে বাঁশ-স্থাপত্যের বরাত পেয়েছেন। তৈরি হবে রবিঠাকুরের বাড়ি, বেলুড় মঠ, হাওড়া ব্রিজ আর লালকেল্লা। দিল্লি থেকে ফিরে সেসব নিয়েই ডুবেছেন এক নীরব শিল্পী। অভাবের কামড়, অপরিচয়ের দৈন্যকে এভাবেই ভুলে গত ৩০ বছর ধরে শিল্পসাধনায় মগ্ন গঙ্গাপারের এক যুবক কলাকার।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ