Bartaman Logo
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সস্তার প্লাস্টিকের দাপটে ধুঁকছে বাঁশশিল্প

প্লাস্টিকের বাড়বাড়ন্তের জেরে ধুঁকছে বাঁশশিল্পীরা। করুণ অবস্থায় সাঁতুড়ির প্রায় ৫০০মাহালি পরিবারের।

সস্তার প্লাস্টিকের দাপটে ধুঁকছে বাঁশশিল্প
  • ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: প্লাস্টিকের বাড়বাড়ন্তের জেরে ধুঁকছে বাঁশশিল্পীরা। করুণ অবস্থায় সাঁতুড়ির প্রায় ৫০০মাহালি পরিবারের। বাঁশশিল্পর উপর নির্ভর করেই তাঁদের সংসার চলে। বর্তমানে সেই পেশা টিকিয়ে রাখাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্লাস্টিকের দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে বাংলার প্রাচীন বাঁশশিল্প। এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

Advertisement

উল্লেখ্য, সাঁতুড়ি ব্লকের সাঁতুড়ি, মুরাডি, বালিতোড়ার মতো পঞ্চায়েত এলাকায় ১০টির বেশি মাহালি সম্প্রদায় অধ্যুষিত গ্রাম রয়েছে। এক সময় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শোনা যেত বাঁশ কাটার শব্দ। গ্রামের ঘরে ঘরে তৈবির হত কুলো, ধামা, ঝুঁড়ি, টুকরি, মাছ ধরার চাঁই, চালুনি। মাহালিদের হাতের তৈরি জিনিসের কদরও ছিল। বিয়ে বাড়ি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পারিবারিক কাজে ব্যবহারের জন্য মাহালিদের বাঁশের তৈরি জিনিসই মানুষ বেশি পছন্দ করে। দূর-দুরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে তাঁদের কাছ থেকে জিনিসপত্র কিনে নিয়ে যেতেন। আবার এলাকার হাট বাজারও তাঁরা তৈরি করা বাঁশের বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করেন। বর্তমানে ছবিটা পুরোপুরি উল্টো। বাজারে ২০ টাকার প্লাস্টিকের ঝুড়ি পাওয়া যাচ্ছে। যেখানে একটি বাঁশের ঝুড়ির দাম ১০০ টাকার বেশি। তাই তাঁরা প্লাস্টিকের সঙ্গে দামে এঁটে উঠতে পারছেন না। বাঁশশিল্পকে বাঁচানোর জন্য বঙ্গীয় আদিবাসী মাহালি সমাজ কল্যাণ সমিতির তরফ থেকে পূর্বতন সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ডেপুটেশন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। সরকারের তরফ থেকে বিভিন্ন জায়গায় ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। সরকারি মেলাগুলিতে তাঁদের তৈরি জিনিসপত্র বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু, প্লাস্টিকের দাপটে বাঁশের তৈরি সামগ্রী টিকতে পারছে না। পরিবেশবিদদের মতে, প্লাস্টিকমুক্ত সমাজ গড়তে বাঁশ শিল্পকে বাঁচানো জরুরি। বাঁশের জিনিসপত্র ১০০শতাংশ পরিবেশ বান্ধব। সাঁতুড়ির শুশুনিয়া ডাঙার মাহালি পাড়ার লক্ষ্মী মাহালি, শ্রীমতী মাহালি বলেন, আগে দিনে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা রোজগার হত। এখন সারাদিন বসে থাকলেও একটা কি দু’টি ঝুড়ি বিক্রি হয়। ছেলে মেয়েরা এই কাজ শিখতে চায় না। সবাই শ্রমিকের কাজে বাইরে চলে যাচ্ছে। এখন বাঁশের দাম তিনগুণ বেড়েছে। জঙ্গল থেকে বাঁশ কাটতে গেলে বন দপ্তরের ভয়। প্লাস্টিকের জিনিস সস্তা। তাই লোকে আমাদের জিনিস নেয় না। শিল্পীদের বক্তব্য, এই শিল্পকে বাঁচাতে হলে সরকারি মেলা ও হাটে বিনামূল্যে স্টলের ব্যবস্থা করা, প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে বাঁশের জিনিস নিয়ে সরকারি প্রচার চাই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ