


সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বসন্তে ‘পৌষমাস’ ঢাকিদের। গণতন্ত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসবে তাঁদের মুখে ফুটেছে হাসি। কারণ, ভোটে তাঁরাও বরাত পাচ্ছেন। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় মনোনয়ন পর্ব শুরু হতেই ঢাকিদের চাহিদা তুঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, কংগ্রেস, বাম- প্রায় সব দলই ঢাকিদের বরাত দিতে শুরু করেছে। বালুরঘাট শহরে সব ঢাকি এখন ‘বুকড’।
জানা গিয়েছে, তৃণমূল ও বিজেপির তরফে ঢাকিদের বরাত দেওয়া হয়েছে। একেকটি দলে অন্তত ১০০ জন ঢাকিকে বরাত দেওয়া হয়েছে। বরাত পেলেও একইদিনে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় খানিকটা সমস্যায় পড়েছেন ঢাকিরা। তাই ঢাকিদের মধ্যে কেউ কেউ আবার নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে দুই দলের মনোনয়নে যোগ দেবেন।
চলতি সপ্তাহে বাকি রাজনৈতিক দলগুলির তরফেও মনোনয়নের জন্য ঢাকিদের বরাত মিলেছে। শুধু মনোনয়ন পর্বই নয়, কেউ কেউ আবার ভোট প্রচারের জন্য পুরো মাসের বরাত পেয়েছেন। ফলে চরম ব্যস্ততা বেড়েছে ঢাকিদের মধ্যে। যেন অকাল উত্সব নেমে এসেছে ঢাকি পাড়ায়। তাঁরা জানিয়েছেন, সারাবছর তেমন রোজগার থাকে না। এবারের ভোটে দুর্গাপুজোর মতোই বায়না মিলছে। বালুরঘাটের নিমাই নট্ট বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের তরফে শতাধিক ঢাকি নিয়ে যাওয়ার বরাত পেয়েছি। এত ঢাকি একসঙ্গে জোগার করাটা খুব চাপের। দুর্গাপুজোর কয়েকটা দিন যেমন ঢাকির চাহিদা থাকে, তেমনই চাহিদা এবারের ভোটেও। বরাতও মিলছে। বালুরঘাটের খিদিরপুরের ঢাকি লালা নট্ট বলেন, আমরাও বরাত পেয়েছি। পর পর কয়েকদিন আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে অংশ নেব। অনেকে আবার প্রচারের জন্যও বরাত দিয়েছেন।
ভোটের আগে ঢাকিপাড়ায় ব্যস্ততা বাড়লেও সবুজ নট্ট নামে এক ঢাকি বলেন, সারাবছর আমরা কাজ পাই না। এই সময় কাজ পেয়েছি। সরকার আমাদের বিশেষ ভাতা কিংবা আর্থিক সুবিধা দিলে ভালো হয়। সোমবার থেকে মনোনয়ন পর্ব শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই এসইউসিআইয়ের চার প্রার্থী মিছিল করে বালুরঘাটে মহকুমা শাসকের দপ্তরে মনোনয়ন জমা দেন। বামফ্রন্টের তরফে বালুরঘাটে আগামী ১ এপ্রিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তৃণমূল এবং বিজেপি ২ এপ্রিল মনোনয়ন জমা দেবে বলে খবর। সব দলই শোভাযাত্রা এবং মিছিল করে মনোনয়ন জমা দেবে। ঢাকের পাশাপাশি আদিবাসী নৃত্য থাকছে শোভাযাত্রায়। থাকবে নানা বাদ্যযন্ত্রও। ভোট-উত্সবে ঢাকিরা বরাত পাওয়ায় খুশি তৃণমূল। দলের জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল বলেন, ভোটে ঢাকিরা বাড়তি উপার্জন করতে পারছে, এটা জেনেও ভালো লাগছে। মুখ্যমন্ত্রী সবার জন্য কিছু করেছেন, আগামীতে ঢাকিদের জন্যও করবেন। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকার বলেন, ঢাকিদের জন্য রাজ্য সরকার কিছু করেনি। আমরা ক্ষমতায় এসে ঢাকিদের নিয়ে ভাবব। ঢাকিরা সারাবছরই উপার্জন করুক, এমনটাই চাইছেন আরএসপির জেলা সাধারণ সম্পাদিকা সুচেতা বিশ্বাসও।