


গোপাল সূত্রধর, বালুরঘাট: বর্তমান সাংসদ বনাম প্রাক্তন সাংসদ। বিজেপি প্রার্থী দিলেও বালুরঘাটে কার্যত বর্তমান সাংসদ সুকান্ত মজুমদার এবং প্রাক্তন সাংসদ তথা এবারের তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষের ‘প্রেস্টিজ ফাইট’। অর্পিতা যেমন চেনা জায়গায় চেনা ছন্দে প্রচার সারছেন, বিজেপি সাংসদও বালুরঘাটের প্রার্থী বিদ্যুত্ রায়কে নিয়ে প্রচারে নেমেছেন।
বুধবার বালুরঘাট শহরে একদিকে বিদ্যুৎকে নিয়ে প্রচারে নামেন সুকান্ত। শহরের আরেকদিকে প্রচার সারেন প্রাক্তন সাংসদ তথা তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা। প্রচার থেকে সুকান্ত ও অর্পিতার রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়ে গিয়েছে। অর্পিতা উন্নয়নকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছেন। অন্যদিকে, সুকান্তর বাজি ভূমিপুত্র প্রার্থী। যদিও এই ভূমিপুত্র প্রার্থীকে নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিজেপিতে কোন্দল কম হয়নি। বিদ্যুৎকে প্রার্থী করার পর থেকে দলীয় কোন্দলে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে পদ্মপার্টিকেও। অসন্তোষের জেরে বিজেপির এসটি মোর্চার জেলা সভাপতি পর্যন্ত নির্দলে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ফলে প্রার্থীকে নিয়ে সরাসরি প্রচারে নেমেছেন বালুরঘাটের সাংসদ তথা মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
এদিন বালুরঘাটের তহবাজার ঘুরে ঘুরে প্রচার করেন সুকান্ত। প্রচারে তাঁকে বলতে শোনা যায়, এবার লোকাল প্রার্থী দিয়েছি। তাই ভোটটা বিজেপিতে দেবেন। বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক অশোক লাহিড়ী কলকাতা নিবাসী ছিলেন। তাঁকে এবার প্রার্থী করেনি বিজেপি। তাঁর বদলে বালুরঘাটে ‘ভূমিপুত্র’ বিদ্যুৎকে প্রার্থী করা হয়েছে। কয়েকদিন ধরে প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারে নেমেছেন সুকান্ত। বিজেপি সাংসদ বলছেন, বিদ্যুৎ রায় ভূমিপুত্র। জেলার বিশিষ্ট আইনজীবী। তাই বালুরঘাটের মানুষ ওনাকে আশীর্বাদ করবেন। একই সঙ্গে জোড়াফুলকে কটাক্ষ করে সুকান্ত বলেছেন, তৃণমূলের যিনি প্রার্থী হয়েছেন, তিনি আমার কাছেই হেরেছিলেন। তাই তাঁকে কেউ ভোট দেবে না।
যদিও এবার জেতার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা। এদিন সকালে বালুরঘাট শহরের ১৭ এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি প্রচার করেন তিনি। সাংসদ থাকাকালীন তিনি যে সমস্ত কাজ করেছিলেন, সেগুলির পাশাপাশি রাজ্য সরকারের উন্নয়নের কথা প্রচারে গিয়ে মানুষের কাছে তুলে ধরছেন অর্পিতা। তৃণমূল পরিচালিত বালুরঘাট পুরসভার উন্নয়নমূলক কাজকর্মের খতিয়ান তুলে ধরেও ভোট-প্রার্থনা করছেন অর্পিতা। সাধারণ মানুষ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন কি না, সেবিষয়েও খোঁজখবর নিচ্ছেন। বালুরঘাটে মেডিকেল কলেজ তৈরি এবং পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়েরও আশ্বাস দিচ্ছেন প্রচারে গিয়ে। শুধু শহরে নয়, গ্রামেও জোর প্রচার করছে তৃণমূল। প্রচার থেকেই বিজেপি এবং সুকান্তকে আক্রমণ করছেন অর্পিতা। বলছেন, বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক কোনো কাজ করেননি। সুকান্ত মজুমদারের উন্নয়নও দেখা যায় না। অর্পিতার দাবি, আমিও এই জেলার। আমি সাংসদ থাকাকালীন বহু কাজ করেছি। পরবর্তীতে করোনা কালেও অনেক কাজ করেছি। সুকান্তবাবু তখন সাংসদ হয়েও ঘরে বসেছিলেন। তাই বালুরঘাটবাসী এবার তৃণমূলের উপরে আস্থা রাখবে। বালুরঘাটের বিশ্বাসপাড়া এলাকায় ভোট প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ।-নিজস্ব চিত্র