


গোপাল সূত্রধর, বালুরঘাট: ঐতিহ্যবাহী বুড়া কালী মন্দিরে পুজো দিয়েই নববর্ষের প্রথম দিন শুরু করেন বালুরঘাটের বাসিন্দারা। তাই চৈত্র সংক্রান্তির পুজোয় দর্শনার্থীদের জন্য ছিল বিশেষ সুবিধা। সংক্রান্তির রাতে পুজো করে বুড়ি কালী মায়ের সোনার মুখমণ্ডল রাখা হয়েছে মন্দিরে। যাতে নতুন বছরের প্রথম দিনে সোনার মুখমণ্ডল দর্শন করতে পারেন ভক্তরা। প্রতিবছর সোনার মুখমণ্ডলে পুজো করে সকালে রুপোর মুখমণ্ডল বসানো হয়। আজ দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা থাকবে পুজো কমিটির তরফে।
বালুরঘাট শহরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বুড়াকালী মাতার মন্দির রয়েছে। কথিত আছে, একসময় ঘন জঙ্গলের ভিতর ছিল এই মন্দির। তার কাছ দিয়ে বয়ে যেত স্বচ্ছতোয়া আত্রেয়ী। নদীর ধারে ভেসে ওঠে বুড়া কালী মাতার বিগ্রহ বা শিলা খণ্ড। এক তান্ত্রিক সেসময় নাকি ওই বিগ্রহকে তুলে এনে পুজো দেন। তারপর থেকে এই পুজোর প্রচলন।
জনশ্রুতি আছে, এক সময় কলকাতার রানী রাসমণি এই মন্দিরে পুজো দিতে আসতেন। বজরায় করে এসে তিনি আত্রেয়ী নদী থেকে জল নিয়ে মায়ের পুজো দিয়ে ফিরে যেতেন কলকাতায়। ঐতিহ্যবাহী এই বুড়াকালী মায়ের পুজোয় নানা নিয়মও রয়েছে।
দু’বার বুড়া কালীর বড়ো করে পুজো হয়। একবার দীপান্বিতা অমাবস্যায়। আরেকবার চৈত্র সংক্রান্তিতে। দুই পুজোতে বহু ভক্তের আগমন হয় মন্দিরে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত এমনকি ভিনজেলা থেকেও হাজার হাজার ভক্ত এই মন্দিরে আসেন।
মন্দির কমিটির তরফে জানা গিয়েছে, চৈত্র সংক্রান্তিতে অর্থাৎ চড়ক পুজোর দিন দুপুরবেলায় এই মন্দিরে শীতলা পুজো হয়। এই মন্দির থেকে কিছুটা দূরে একেবারে আত্রেয়ী নদীর ধারে কংগ্রেস ঘাট এলাকায় মশান কালী মায়ের মন্দির রয়েছে। কথিত রয়েছে, মশান কালীমা বুড়ামা কালী মায়ের বড়ো বোন। তাই ছোট বোনের পুজোর আগে মশান কালী মন্দিরে গিয়ে পুজো দেওয়া হয়। এরপর রাতভর পুজো হয় বুড়া কালী মায়ের। পুজোর বিশেষ বিশেষ রীতি রয়েছে। পুজোতে বোয়াল মাছের ভোগ দেওয়া হয়। রীতি অনুযায়ী বলি দেওয়া হয়। এরপর অন্নভোগ, পাঁচ রকমের ফল, মিষ্টান্ন ভোগ দেওয়া হয়। পয়লা বৈশাখের দুপুরেও অন্নভোগ দেওয়া হয়। বহু ভক্ত চৈত্র সংক্রান্তি এবং পয়লা বৈশাখে এই মন্দিরে ভোগ দিতে ভিড় জমান।
শুধু তাই নয়, এই মন্দিরে পুজো দিয়ে নতুন বছর শুরু করেন ভক্তরা। বালুরঘাটের এক ভক্ত প্রিয়াঙ্কা কর্মকার বলেন, বালুরঘাটের অধিষ্ঠাত্রী দেবী বুড়া কালী মা। এই মন্দিরে পুজো দিয়ে নববর্ষের প্রথম দিন শুরু করি। এবছরও ব্যতিক্রম হবে না। সকালবেলায় আমরা পুজো দিতে যাব।
বর্তমানে বুড়া কালী মাতা পুজো সমিতি এই মন্দিরের সমস্ত দায়িত্ব পালন করে আসছে। সমিতির সভাপতি বালুরঘাটের প্রাক্তন মন্ত্রী শংকর চক্রবর্তী। বর্তমান সম্পাদক অমিত মহন্ত বলেন, সারাবছর রুপোর মুখমণ্ডলে পুজো দেওয়া হয়। দীপান্বিতা অমাবস্যায় প্রায় দেড় কেজি ওজনের সোনার মুখমণ্ডলে পুজো দেওয়া হয়। চৈত্র সংক্রান্তিতে ছোট সোনার মুখমণ্ডলে পুজো দেওয়া হয়। প্রতিবছর রাতে সোনার মুখমণ্ডল নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু এবছর আমরা পয়লা বৈশাখেও সোনার মুখমণ্ডল রাখব। তার জন্য পুলিশি নিরাপত্তা পর্যাপ্ত থাকবে।