


কাঠমাণ্ডু: শেষ হাসি হাসলেন বলেন্দ্র শাহ। নেপালের নির্বাচনে জেন জি ঝড়। প্রত্যাশা মতোই নয়া প্রজন্মের বিক্ষোভ পরবর্তী নির্বাচনে নেপালের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়োসড়ো বদল ঘটল। প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসতে চলেছেন জেন জি আন্দোলনে নেপথ্যের মুখ, র্যাপার তথা কাঠমাণ্ডুর প্রাক্তন মেয়র বলেন্দ্র। শনিবার শেষ পর্যায়ের গণনায় সেই বিষয়টি কার্যত নিশ্চিত। ইতিমধ্যেই বলেন্দ্রর দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ৬৫টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। এগিয়ে ৫৭টি আসনে। ঝাপা-৫ আসনে নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা সিপিএন-ইউএমএল-এর প্রধান কেপি শর্মা ওলিকে ৪৯ হাজার ৬১৪ ভোটে পরাজিত করেছেন বলেন্দ্র। ১৬৫টি আসনে গণনা চলছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৬৫টি আসনে জয় পেয়েছে আরএসপি। চিতওয়ান -২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন দলের প্রেসিডেন্ট রবি লামিছেন। কাঠমাণ্ডুর ১০টি আসন, ভক্তপুর-১, বারা-৩, পার্সা-১, মাহোত্তারি-১। সর্বত্র বলেন্দ্রর দলের জয়জয়কার। ধারেকাছেও নেই এতদিন নেপালের রাজনীতিতে দাপট দেখানো ওলি বা প্রচণ্ডদের দল। সবমিলিয়ে ২০টি আসন পেতে চলেছে গগন কুমার থাপার নেপালি কংগ্রেস। নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহল ওরফে প্রচণ্ডের দল নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ৩টি আসনে জিতেছে। এগিয়ে ৫টি আসনে। ৩টি আসনে জয় পেয়েছে ওলির সিপিএন-ইউএমএল। এগিয়ে আরও ৭টি আসনে। নেপালে রাজতন্ত্রের পক্ষে থাকা রাজেন্দ্র লিংডেনের রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির ঝুলিতে গিয়েছে মাত্র একটি আসন। গণনা বলছে, নেপালবাসীর একটা বড়ো অংশ ২০২২ সালে গড়ে ওঠা আরএসপি’র উপর আস্থা রেখেছে। বিশেষ করে, বলেন্দ্রর নেতৃত্বেই সিলমোহর পড়েছে এবারের ভোটে।
১৯৯০ সাল থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতার সাক্ষী থেকেছে নেপাল। দেশটিতে ৩২ বার সরকার পরিবর্তন হয়েছে। কোনও সরকারই নির্ধারিত পাঁচ বছরের মেয়াদ পূরণ করতে পারেনি। দল ভাঙানো থেকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। নানা ঘটনার শিকার হয়েছে ক্ষমতাসীন দলগুলি। এই আবহে কোন পথে এগবে নেপালের পরবর্তী সরকার, সেদিকেই নজর বিশ্বের। এদিন নেপালের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।