Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মুখ্যমন্ত্রীর নামে ‘সরকারি ঋণ প্রকল্পের’ টোপ, রাজ্যজুড়ে গায়েব লক্ষ লক্ষ টাকা

এবার স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের  নাম নিয়ে সাইবার হানার ফাঁদ। সরকারি প্রকল্পে বিনা তথ্য যাচাইয়ে দেওয়া হবে ঋণ— এই টোপ দিয়ে রাজ্যজুড়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠছে।

মুখ্যমন্ত্রীর নামে ‘সরকারি ঋণ প্রকল্পের’ টোপ, রাজ্যজুড়ে গায়েব লক্ষ লক্ষ টাকা
  • ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের  নাম নিয়ে সাইবার হানার ফাঁদ। সরকারি প্রকল্পে বিনা তথ্য যাচাইয়ে দেওয়া হবে ঋণ— এই টোপ দিয়ে রাজ্যজুড়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠছে। লক্ষ লক্ষ টাকা উধাও হচ্ছে গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে। এই নয়া জালিয়াতির তদন্তে নেমেছে রাজ্য পুলিশের সাইবার বিভাগের বিশেষ টিম। একইসঙ্গে, রাজ্য পুলিশের তরফে প্রতারণার ফাঁদ থেকে জনগণকে রক্ষা করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতা প্রচারে নেমেছে। ভবানী ভবন সূত্রে খবর, বড় কোনও চক্র এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে প্রাথমিক তদন্তে এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে এই চক্রের পিছনে কোনও রাজনৈতিক ‘ইন্ধন’ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।  

Advertisement

রাজ্য পুলিশের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভুয়ো ভিডিও এবং বিজ্ঞাপন ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিওতে রয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ও ছবি। যেখানে তিনি সরকারি ঋণ প্রকল্পের প্রচার করছেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে প্রচার চলছে— ‘তৎক্ষণাৎ ঋণ পেতে পারবেন সাধারণ মানুষ। সিবিল স্কোর যাচাই না করেই ঋণ পাওয়া যাবে। ভোটের আগে এটি সরকার অনুমোদিত একটি বিশেষ প্রকল্প।’ এই ভিডিও দেখার পর অনেকেই তাতে আবেদন জানিয়েছেন বলে রাজ্য পুলিশের কাছে খবর। তাতে বেশ কয়েকজন আর্থিক জালিয়াতির সম্মুখীনও হয়েছেন। বিষয়টি ভবানী ভবনের কানে পৌঁছতেই তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। সূত্রের খবর, এই বিজ্ঞাপন ও ভিডিও যে ভুয়ো, তা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন ডিজি। যাতে  প্রতারণার এই ফাঁদ থেকে নিরাপদ থাকতে পারেন সাধারণ মানুষ।  একইসঙ্গে, কে বা কারা এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য পুলিশের প্রধান। 
রাজ্য পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ‘এই ধরনের কোনও ঋণ প্রকল্প  মুখ্যমন্ত্রী বা পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক ঘোষিত বা অনুমোদিত নয়। এই বিজ্ঞাপনগুলি সম্পূর্ণ ভুয়ো ও প্রতারণামূলক উদ্দেশে ভাইরাল করা হয়েছে। একইসঙ্গে, আইনত, মুখ্যমন্ত্রীর নাম ও ছবি ব্যবহার করা ভুয়ো পোস্ট করা অবৈধ।’ সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মূলত সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে এধরনের প্রতারণার জাল বুনেছে জালিয়াতরা। সেখানে ক্লিক করলেই ভুয়ো অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের পেজ খুলে যাচ্ছে। চাওয়া হচ্ছে আধার, প্যান ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য। এরপরেই মোবাইল ফোনে আসছে অটিপি। প্রতারকদের দাবি, শুধুমাত্র অগ্রিম প্রসেসিং ফি পেমেন্ট করলেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট হয়ে যাবে ঋণের টাকা। যদিও প্রসেসিং ফি’র টাকা পাওয়ার পরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে প্রতারকরা। 

সম্পর্কিত সংবাদ