Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেআইনি ক্যাব-ট্যাক্সির দালাল দৌরাত্ম্য আটকাতে নিয়মিত অভিযান পুলিসের

বেআইনি ক্যাব-ট্যাক্সির দালাল দৌরাত্ম্য আটকাতে নিয়মিত অভিযান পুলিসের
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: স্টেশনের বাইরে সরকারি অ্যাপ ক্যাবের কাউন্টার রয়েছে। যাত্রীদের সাহায্য করার জন্য মোতায়েন রয়েছে পুলিসও। তা সত্ত্বেও ভাড়া সংক্রান্ত ব্যাপারে এক শ্রেণির দালালদের হাতে হাওড়া স্টেশনের যাত্রীদের হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। স্টেশনের বাইরে এই দালাল দৌরাত্ম্য কমাতে কড়া নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাওড়া ট্রাফিক পুলিস। গত সপ্তাহে এরকম পুলিসি অভিযানে হাওড়া সিটি পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে ১৩ জন।
Advertisement
সূত্রের খবর, গত শনিবার সন্ধ্যার পর হাওড়া স্টেশনের নিউ কমপ্লেক্সের বাইরে কয়েকজন দালাল যাত্রীদের হেনস্তা করছে বলে খবর পায় পুলিস। সামান্য দূরত্ব যাওয়ার জন্য ওই যাত্রীদের কাছ থেকে অনেক বেশি টাকা ভাড়া চাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। খবর পেয়েই গোলাবাড়ি থানার পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেন হাওড়া ট্রাফিক পুলিসের আধিকারিকরা। হাতেনাতে পাকড়াও করা হয় তিনজনকে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের নাম গোবিন্দ ঝা, ধর্মেন্দ্র সাউ ও বিনোদ সাউ। এরা একটি চক্রের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে হাওড়া স্টেশনের বাইরে এই কারবার চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানতে পারে পুলিস। গত সপ্তাহে এরকম অভিযান চালিয়ে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, যাত্রীদের হুমকি দেওয়া সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বেআইনিভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ক্যাব, ট্যাক্সির যাত্রী ধরতে মূলত নিউ কমপ্লেক্স থেকে বেরনো লোকজনকে ‘টার্গেট’ করে এই দালালরা। স্টেশন থেকে বেরলেই যাত্রীদের তাদের খপ্পরে পড়তে হয়। কারণ, দালালদের উদ্দেশ্য থাকে কোনওভাবেই যাত্রীদের ‘যাত্রীসাথী’র কাউন্টার পর্যন্ত পৌঁছতে না দেওয়া। পুলিসের নজর এড়িয়ে প্রথমে অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ার টোপ দেওয়া হয়। তারপর যাত্রীদের বেআইনিভাবে পার্কিং করে রাখা ট্যাক্সি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। যাত্রীরা যখন ভারী লাগেজ, ব্যাগ নিয়ে অনেকটা হেঁটে ওই ট্যাক্সি পর্যন্ত চলে যান, তখন প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া চেয়ে যাত্রীদের হেনস্তা করা হয়। মাঝেমধ্যেই এনিয়ে তুমুল বচসা বেধে যায় দু’পক্ষের। হাওড়া সিটি পুলিসের ডিসি (ট্রাফিক) সুজাতা কুমারী বলেন, ‘কিছু অসাধু চক্রের হাতে যাত্রীরা হেনস্তার শিকার হচ্ছিলেন। এসব বন্ধ করতে লাগাতার অভিযান চালানো হচ্ছে। আগামীতেও যা অব্যাহত থাকবে।’ প্রসঙ্গত, হাওড়া স্টেশনের নিউ কমপ্লেক্সের বাইরে দালাল দৌরাত্ম্য নিয়ে সম্প্রতি ‘বর্তমান’-এ একটি খবর প্রকাশিত হয়। তারপর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। পুলিসের এই সক্রিয়তার কারণে সোমবার সকাল থেকে ওই অঞ্চলে দালালদের দাপাদাপি অনেকটাই কম লক্ষ্য করা গিয়েছে। তবে এদিনও ওল্ড কমপ্লেক্সের বাইরে কয়েকজন দালালকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যাচ্ছিল। পুলিসকে দেখে তারা চম্পট দেয়। প্রশাসনের এই তৎপরতায় খুশি সাধারণ যাত্রীরা।
সম্পর্কিত সংবাদ