Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অবশেষে লোকশিল্পীর কার্ড পেলেন বহুরূপীরা, প্রতি মাসে মিলবে ভাতা, বর্তমান-এর খবরের জের

অবশেষে লোকশিল্পীর কার্ড পেলেন পেশাদার বহুরূপীরা। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে ‘বর্তমান’-এ সংবাদ আকারে প্রকাশিত হয়েছিল বহুরূপীদের দুর্দশার কথা। মূলত তার জেরেই নড়েচড়ে বসেছিল প্রশাসন।

অবশেষে লোকশিল্পীর কার্ড পেলেন  বহুরূপীরা, প্রতি মাসে মিলবে ভাতা, বর্তমান-এর খবরের জের
  • ১৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: অবশেষে লোকশিল্পীর কার্ড পেলেন পেশাদার বহুরূপীরা। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে ‘বর্তমান’-এ সংবাদ আকারে প্রকাশিত হয়েছিল বহুরূপীদের দুর্দশার কথা। মূলত তার জেরেই নড়েচড়ে বসেছিল প্রশাসন। 

Advertisement

তারকেশ্বরের জোৎশম্ভু এলাকা এক সময় বহুরূপীদের গ্রাম নামেই পরিচিত ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেননি এই শিল্পীরা। ইন্টারনেট আর আধুনিক মনোরঞ্জনের জগতে কদর নেই এই শিল্পের। তাও শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা উপেক্ষা করে পেটের টানে মুখে রং মেখে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান বহুরূপীরা। এই গ্রামেরই দীপঙ্কর, মোহন, স্বপনরা লুপ্তপ্রায় এই শিল্পকে কোনওমতে টিকিয়ে রাখলেও সরকারিভাবে কোনও স্বীকৃতি বা লোকশিল্পীর ভাতা পান না। ফলে সংসারের অনটনও ঘোচে না। 
তারকেশ্বর শহর লাগোয়া বালিগোড়ি ১ নম্বর পঞ্চায়েতের অধীনে রয়েছে জোৎশম্ভু গ্রাম। বছর আটেক আগে প্রয়াত হন এলাকার প্রবীণ বহুরূপী শিল্পী কালীপদ পাল। দীপঙ্কর সেই কালীপদ পালেরই নাতি। দাদুর পেশাকে ধরে রেখেছেন তিনিই। প্রতিদিন ৫-৬ জন আসেন তাঁদের বাড়িতে বহুরূপী সাজতে। প্রত্যেককে পোশাক ভাড়া ও মুখে মাখার রং দিয়ে মেলে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। নিজেও বহুরূপী সেজে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ান। চৈত্র, শ্রাবণ মাস ও অন্যান্য উৎসবে রাস্তাঘাটে বহুরূপীদের সংখ্যা বাড়ে। দীপঙ্কর এক সময়ে বলেছিলেন, এই পেশায় সম্মান নেই বলে এখন আর কেউ আসতে চান না। শিল্পীর সংখ্যা কমতে কমতে এখন বড়জোর ১০-১৫ জনে এসে ঠেকেছে। তাঁরা ক’জনই পেশার তাগিদে বহুরূপী শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তবে তাঁদের আক্ষেপ, সরকারিভাবে আমরা কোনও সহযোগিতা পাই না। মেলে না লোকশিল্পীর ভাতাও। 
ওই খবর বর্তমান’-এ প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। খবর দেওয়া হয় বহুরূপী শিল্পীদের। তারকেশ্বরের এই এলাকা থেকে আটজন বহুরূপী যোগাযোগ করেন হুগলি জেলার তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ব্যাঙ্কের পাশবই সহ অন্যান্য নথির সমস্যা থাকায় তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের নাম বাতিল হয়ে যায়। নথি সংশোধনের পরে তাঁদের যোগাযোগ করতে বলা হয়। তারকেশ্বরের তিন বহুরূপী সহ জেলার বেশ কয়েকজন বহুরূপীকে বুধবার চুঁচুড়ায় হুগলি জেলা লোকশিল্পী সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়ে লোকশিল্পী কার্ড তুলে দেওয়া হয়।
লোকশিল্পীর সরকারি স্বীকৃতি পেয়ে খুশি বহুরূপী দীপঙ্কর। বলেন, ‘বর্তমান’-এ প্রকাশিত সংবাদ দেখেই প্রশাসনের তরফে আমাদের ডেকে পাঠানো হয়। অবশেষে আমরা কার্ড তুলে পেলাম। এবার থেকে প্রতি মাসে লোকশিল্পী ভাতা পাব আমরা। বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানেও ডাক পাবার আশা করছি। এর ফলে কিছুটা হলেও অনটন ঘুচবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ