নয়াদিল্লি: লালকেল্লা। সম্রাট শাহজাহানের তৈরি লালকেল্লা। দিল্লির মানচিত্রের অন্যতম নিদর্শনও বটে। ইতিহাস বিজড়িত এই লালরঙা দুর্গ-প্রাসাদ আসলে জাতীয় নয়, পারিবারিক সম্পত্তি! সেই কারণে আর জবরদখল নয়, এবার ফেরাতে হবে লালকেল্লার মালিকানা। এমনই দাবি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরের এক ‘বংশধর’। সুলতানা বেগম নামে ওই মহিলার দাবি, তিনি মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহের প্রপৌত্রবধূ। সেই হিসেবে লালকেল্লা তাঁদের বংশের সম্পত্তি। এর পরেই তিনি সর্বোচ্চ আদালতের কাছে লালকেল্লার ‘অধিকার’ চেয়ে আর্জি জানিয়েছিলেন। সোমবার শুনানি শেষে অবশ্য সেই আবেদন খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত।
ওই মহিলার আবেদন সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী বলেই ক্ষান্ত থাকেনি দেশের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি পিভি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ। আবেদনকারীর বয়ান শুনে হতবাক প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘যদি এই দাবিকে মান্যতা দেওয়া হয়, তাহলে তা শুধুমাত্র লালকেল্লাতেই আটকে থাকবেন কেন? ফতেপুর সিক্রি বা আগ্রার অন্যান্য কেল্লাগুলিকেও কেন এর আওতায় আনা হবে না? এগুলি ছেড়ে দিচ্ছেন কেন?’ এর পরেই আদালত ওই আবেদন খারিজ করে দেয় বলে জানায় দুই বিচারপতির বেঞ্চ।
নিজের দাবি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই আদালতে চক্কর কাটছেন সুলতানা বেগম। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে দিল্লি হাইকোর্টে লালকেল্লাকে নিজেদের সম্পত্তি বলে দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। ইতিহাস উল্লেখ করে বলা হয়, পঞ্চম মুঘল সম্রাট শাহজাহান তৈরি করেছিলেন দিল্লির ওই দুর্গ। শাহজাহানের পছন্দের রং ছিল লাল-সাদা। ওই দুর্গের মূল উপকরণ ছিল লাল বেলেপাথর। সেই থেকেই প্রাসাদের নাম হয় লালকেল্লা। ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহ দমনের পর ব্রিটিশরা শেষ সম্রাট বাহাদুর শাহকে বন্দি করে। পাঠানো হয় নির্বাসনে। এরপরই ব্রিটিশরা অন্যায়ভাবে তাঁদের পারিবারিক সম্পত্তি দখল করে। সুলতানা বেগমের দাবি, স্বাধীনতার পরও ভারত সরকার বেআইনিভাবে লালকেল্লা দখল করে রেখেছে। তাই এর দখল ও ক্ষতিপূরণ তাঁর চাই। কিন্তু শুনানি শেষে দিল্লি হাইকোর্টের এক বিচারপতির বেঞ্চ সেই আর্জি খারিজ করে দেয়। পাশাপাশি জানায়, সুলতানার দাবির কোনও সারবত্তা নেই। এরপর গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর দিল্লি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানান সুলতানা। প্রায় ৯০০ দিন পর কেন আবেদন করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। সুলতানা জানান, অসুস্থতা ও মেয়ের মৃত্যুর জন্য তাঁর আর্জি জানাতে দেরি হয়েছে। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। উপায়ান্তর না দেখে শীর্ষ আদালতে যান সুলতানা। আবেদনে জানান, দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের বংশধর হিসেবে তিনিই আইনত লালকেল্লার মালিক।
শুনানি চলাকালীন সুলতানার আইনজীবী আদালতে জানান, মামলা করতে দেরির কারণে আবেদন খারিজ করেছিল দিল্লি হাইকোর্ট। যদি একান্তই মামলা খারিজ করতে হয়, তা যেন দেরির কারণেই করা হয়। যদিও সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। আবেদনের কোনও সারবত্তা না থাকার কারণেই শেষ পর্যন্ত মামলাটি খারিজ করে দেয় আদালত।