সোহম কর, কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতায় এবার থিমের মেলা। রাসবিহারী মোড় থেকে রবীন্দ্র সরোবর, পুজো পরিক্রমায় এই পথ বাদ রাখলে আফসোসের শেষ থাকবে না। রাসবিহারী মোড় থেকে চেতলার দিকে যেতে গিয়ে বাদামতলা আষাঢ় সংঘ ও ৬৬ পল্লী। আবার সরোবরের দিকে হাঁটলে মুদিয়ালি আর শিব মন্দির। এই চারটি পুজোই এ বলে আমায় দেখ, ও বলে আমায় দেখ!
বাদামতলা আষাঢ় সংঘ এবার ৮৮ বছরে পা দিচ্ছে। তারা একটি পৌরাণিক গল্পের আদলে মণ্ডপ গড়ে তুলছে। এখন পাশের রাস্তা দিয়ে গেলেই দেখা যাবে, যেন আস্ত পুরানো মন্দির গড়ে উঠছে সেখানে। পুজো কমিটির সদস্য সন্দীপ চক্রবর্তী বলছিলেন, একটা পৌরাণিক কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে। মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বেলে মাটির প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। মোটামুটি ১২ অথবা ১৩ তারিখ উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। পৌরাণিক গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে থিমের নাম ‘স্বপ্নে পাওয়া রূপের রানি, জাগ্রত মা জগজ্জননী’। প্রতিমা তৈরি করছেন পল্লব জানা, আলোক শিল্পী পিনাকী গুহ ও আবহ শিল্পী পূরব চক্রবর্তী। ক্রিয়েটিভ অ্যাডভাইসর রণো বন্দ্যোপাধ্যায়। বাদামতলা থেকে একটু এগোলেই ৬৬ পল্লি। এই ক্লাব এবার ৭৬ বছরে পা দিয়েছে। পুজো কমিটির সম্পাদক প্রদুম্ন মুখোপাধ্যায় বলছিলেন, ‘এই বছর আমাদের মণ্ডপে এলে মানুষ অগ্নিযুগের ৪১ জন বিপ্লবীর বিষয়ে জানতে পারেবন। সেখানে থ্রিডি স্ট্রাকচার থাকবে। বিপ্লবীদের আবক্ষ মূর্তি থাকবে।’ মহালয়ার দিন পূর্ণাঙ্গ থিমের নাম প্রকাশিত হবে। আপাতত নাম রাখা হয়েছে ‘তোমার পরে ঠেকাই মাথা’। প্রতিমা তৈরি হচ্ছে থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। সৃজনে রয়েছেন পার্থ মাইতি, সৌম্য লাহা ও সুমন্ত আদিত্য। প্রতিমা তৈরি করছেন সায়ন পাখিরা, আলোকসজ্জায় পিনাকী গুহ।
ওদিকে, মুদিয়ালির পুজো এবার ৯২ বছরে। এই বছর তাদের থিম ‘ঐতিহ্যের লোককথা’। গোটা মণ্ডপই সাজানো হয়েছে ঝাড়বাতি, পুরানো বাড়ির খড়খড়ি জানলার আদলে। মণ্ডপের কাজ ইতিমধ্যেই অনেকখানি হয়ে গিয়েছে। থিম রূপায়নের কাজ করছেন বিমান সাহা। প্রতিমা শিল্পী অসিত পাল। থিম যাই হোক না কেন, মুদিয়ালি কিন্তু বরাবরই সাবেকি প্রতিমা করে থাকে। এবারও তার অন্যথা হচ্ছে না। আর পুজোর আগে সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়া মণ্ডপটি শিববন্দিরের। এই বছর তাদের থিম ‘পরব’। রাজস্থানের একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী উত্সব হল গণগৌর। সেই উত্সবের অন্যতম আকর্ষণ বর্ণময় শোভাযাত্রা। সেখানে দেবী গৌরী, দুই রাজা ও দুই রানিকে নিয়ে মহিলারা পদযাত্রায় বের হন। আবার দুর্গাপুজোতেও সেই শক্তির আরাধনা হয়। দুই প্রদেশের দুই উত্সবের মেলবন্ধন দেখা যাবে শিবমন্দিরের ৯০ বছরের পুজোতে।