শ্রীনগর: চলতি বছরের ৩ জুলাই শুরু হয়েছে অমরনাথ যাত্রা। প্রশাসনের রিপোর্ট বলছে, কাশ্মীরের পাহাড়ি ওই গুহামন্দিরে চলতি বছরে রেকর্ড ভিড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ৩ হাজার ৮৮৮ মিটার উচ্চতার কাশ্মীর হিমালয়ের এই পবিত্র তীর্থস্থানে এই সময়েই আপনা আপনি বরফ জমে তৈরি হয় শিবলিঙ্গ। দীর্ঘ বছর ধরেই তীর্থযাত্রার শুরুর দিকে বেশ কয়েকদিন জমে থাকে ওই শিবলিঙ্গ। পুণ্যার্থীরা তাকে বাবা বরফানি বলে অভিহিত করেন। তবে জলবায়ু পরিবর্তনে এর মধ্যেই বাবা বরফানির প্রায় ৯০ শতাংশ গলে গিয়েছে। আর এই বিষয়টিই আবহাওয়াবিদদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে।
চলতি বছরে অমরনাথযাত্রীদের ঢল নেমেছে। প্রতিবারের মতো এবারেও ৪৮ কিলোমিটারের পহেলগাঁও রুট এবং ১৩ কিলোমিটারের বালতাল রুট দিয়ে যাত্রা শুরু করেন পুণ্যার্থীরা। ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত সবরকম ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। তবে পুণ্যার্থীদের ঢল নিয়ে কাশ্মীর প্রশাসনের তরফে যে প্রচারই করা হোক না কেন, বরফের শিবলিঙ্গ গলে যাওয়া নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে পিডিপি নেত্রী ইলতিজা মুফতি। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুফতি জলবায়ু পরিবর্তনকেই এই ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন। তবে তার পিছনে যে পরিবেশ সচেতনতার অভাব বড়োসড়ো কারণ বলেও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বেহিসাবি গাছ কাটা, অবৈধ খনন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির জন্যই অমরনাথে পরিবেশের উপর প্রভাব পড়ছে। তারই ফলস্বরূপ এত তাড়াতাড়ি শিবলিঙ্গ গলতে শুরু করেছে। তিনি লেখেন, ‘অমরনাথ যাত্রা মাত্র এক সপ্তাহ হয়েছে। অথচ এর মধ্যেই প্রকৃতির দৌলতে তৈরি বরফের শিবলিঙ্গ গলতে শুরু করেছে। বেআইনি খনন, গাছ কাটা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি এবং জলস্তর কমে যাওয়ার কারণে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে।’ কৃত্রিম কারণেই প্রকৃতির এই ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি মুফতির।
শুধু তিনিই নন। অনেকেই পুণ্যার্থীদের অধিক আগমনকেই এই ঘটনার জন্য দায়ি করেছেন। প্রথম চারদিনেই অমরনাথে ৯৩ হাজার তীর্থযাত্রী পৌঁছেছেন। এ ব্যাপারে জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা বলেন, নথিভুক্তি ছাড়াই বহু পর্যটক দর্শনে আসছেন। আমি বলছি, এক দফার পর্যটক ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তারপর বাকিরা দর্শনে যান।