নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বউবাজার দিয়ে মেট্রো চলার পথ খুলতে চলেছে। হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ রুটে মেট্রো চালুর খবর ঘিরে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। দেশের প্রথম নদীর নীচে দিয়ে গিয়েছে এই মেট্রো করিডর। তা নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলেও চর্চা চলে। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো এই প্রকল্প নিয়ে লাগাতার প্রচার চালায়। কিন্তু অভিযোগ, প্রচারের ঢক্কানিনাদে ঢাকা পড়েছে ১০৫টি পরিবারের কান্নার আওয়াজ।
Advertisement
২০১৯ সালে টানেল বোরিং মেশিনের (টিবিএম) বিপত্তিতে জল ঢুকে বউবাজারের দুর্গা পিতুরি লেনের বহু বাড়িতে ফাটল ধরে। বিপজ্জনক ওই বাড়িগুলি বাসযোগ্য না থাকায় গত পাঁচ বছর ধরে কার্যত ঘরছাড়া একাধিক পরিবার। ২০২২ সালে দু’দফায় মাটির তলায় জলের তোড়ে উপরের অংশে থাকা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে বারবার গভীর রাতে ঘুম চোখে শেষ সম্বলটুকুও ফেলে রেখে গৃহহীন হতে হয়েছে অনেক বাসিন্দাকে। কোনও হোটেলের ঘিঞ্জি ঘরে বসে পরিবারের শিশুদের দিতে হয়েছে মাধ্যমিক কিংবা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। বসত ভিটে হারিয়ে ওই সময় প্রাণ হারান বউবাজারের ওই এলাকার বহু প্রবীণ। যাঁদের আর ‘ঘরে ফেরা’ হয়নি। বিষয়টি আজও তাড়া করে ফেরে মাটি ও মানব কল্যাণ সোসাইটির সম্পাদক সঞ্জয় সেনকে। সোমবার ‘বর্তমান’ কাগজে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর বউবাজার জট কাটার খবর পড়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কা আরও গ্রাস করেছে তাঁকে। সঞ্জয়ের কথায়, মেট্রোর এতবড় সাফল্যে দেশ-বিদেশের জনতা তারিফ করবে। কিন্তু আমরা জানি, ওই এলাকায় আর বাড়ি করতে পারব না। কারণ কাজ শেষ হলে সেখানেই মাটির তলার কম্পন সহ একাধিক কারিগরি দিক খতিয়ে দেখা হবে। সেক্ষেত্রে নরম কাদামাটি যুক্ত ওই এলাকায় নতুন করে বাড়ি করার সরকারি অনুমতি মিলবে না। হতাশার সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, ২২টি বাড়ির ১০৫ পরিবারের কথা কী কেউ মনে রাখবে?



