


অযোধ্যা: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ। তার ধাক্কা রামনগরী অযোধ্যাতেও! জোগান নেই রান্নার গ্যাসের। এলপিজি সিলিন্ডার অমিল হয়ে পড়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেল অযোধ্যার বিখ্যাত ‘শ্রীরাম রসোই’। এই ‘শ্রীরাম রসোই’ থেকেই প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার ভক্তের জন্য বিনামূল্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। পরিস্থিতি সামলাতে কাঠ ও কয়লার মতো বিকল্প জ্বালানির কথাও ভাবছে কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, এলপিজি সংকটের জেরে বন্ধ হওয়ার মুখে অযোধ্যার আরও এক গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হনুমানগড়ির লাড্ডু উৎপাদন। স্থানীয় দোকানগুলি থেকে জানানো হচ্ছে, আপাতত লাড্ডুর পুরানো স্টক দিয়ে অবস্থা সামাল দেওয়া হচ্ছে।
অযোধ্যায় রামমন্দিরের কাছেই অবস্থিত আমাওয়া মন্দির কর্তৃপক্ষ ‘শ্রীরাম রসোই’-এর দায়িত্বে রয়েছে। এলপিজি সংকটের আবহে সেখানে পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধের নোটিস পড়েছে। সেই নোটিসে লেখা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধের কারণে দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের অভাব তৈরি হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে আজকের ‘শ্রীরাম রসোই’ বাতিল করা হয়েছে। আমাওয়া মন্দিরের ম্যানেজার পঙ্কজ কুমার বলেন, রান্নার গ্যাসের জোগান ব্যাহত হওয়ায় রান্না সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নোটিস ঝুলিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক হওয়ার পর ফের পরিষেবা চালু করা হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, অবস্থা সামলাতে রাইস কুকার ও ইলেক্ট্রিক কুকার ব্যবহারের ভাবনা রয়েছে। বিকল্প জ্বালানি হিসাবে কয়লা ও কাঠ ব্যবহার করা যায় কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এলপিজি সংকটের আঁচ টের পাওয়া গিয়েছে বিখ্যাত হনুমানগড়িতেও। সেখানে প্রসাদ বিক্রি করা দোকানদারদের দাবি, রান্নার গ্যাসের জোগান না থাকায় রান্না তৈরির কাজ ব্যাহত হয়ে পড়েছে। হনুমানগড়ির আশপাশে প্রায় ১৫০টি দোকান রয়েছে। সব মিলিয়ে সেখানে দিনে ৩০ থেকে ৪০ কিলোগ্রাম লাড্ডু তৈরি হয়। যদিও রান্নার গ্যাসের অভাবে লাড্ডু তৈরি মুখ থুবড়ে পড়েছে। দোকানিরা জানাচ্ছেন, পুরানো যেটুকু স্টক রয়েছে আপাতত তাই দিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে। ফাইল চিত্র