


নয়াদিল্লি: বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন বয়কট করবে আওয়ামি লিগ। বুধবার একথা ঘোষণা করেছেন দলনেত্রী শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় পর কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথমবার তাঁর সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি, মার্কিন সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এবং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্টের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে নির্বাচন নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচন হবে বলে ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশের তদারকি সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস। সেই নির্বাচনে হাসিনার আওয়ামি লিগকে লড়তে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। ইউনুস প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে ‘নির্মম’ বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এই প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামি লিগের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি শুধু অন্যায়ই নয়, এটা আসলে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।’ তিনি আরও বলেন, ‘লক্ষ লক্ষ মানুষ আওয়ামি লিগকে সমর্থন করেন। একটা বিষয় স্পষ্ট, তাঁরা ভোট দেবেন না। এই লক্ষ লক্ষ লোককে বাদ দিয়ে আপনি কোনও রাজনৈতিক ব্যবস্থা সচল রাখতে পারবেন না।’ তাঁর সাফ কথা, আওয়ামি লিগকে ভোটে লড়তে না দিলে, দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদ মাথাচাড়া দেবে। হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নিলে কেউ যেন আগের কর্মকাণ্ড ভুলে না যান।একবিংশ শতাব্দীতে শেখ হাসিনার চেয়ে বড় খুনি কেউ নেই। তাঁর মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনও কেউ করেনি।’
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে হাসিনার আওয়ামি লিগ এবং বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)। অনিয়ম এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের জেলবন্দির বিরোধিতা করে ২০১৪ সালে ভোট বয়কট করেছিল বিএনপি। বাংলাদেশে এখন ১২ কোটি ৬০ লক্ষ ভোটার রয়েছেন। লিগের অনুপস্থিতিতে এবার বিএনপি বাড়তি সুবিধা পাবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।