Bartaman Logo
২৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তোলাবাজি নিয়ে মণ্ডল সভাপতির অডিয়ো ভাইরাল, খেজুরিতে বিজেপি নেতা বহিষ্কৃত

মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলার অভিযোগ সংক্রান্ত একটি অডিয়ো ভাইরাল হয়েছিল।

তোলাবাজি নিয়ে মণ্ডল সভাপতির অডিয়ো ভাইরাল, খেজুরিতে বিজেপি নেতা বহিষ্কৃত
  • ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলার অভিযোগ সংক্রান্ত একটি অডিয়ো ভাইরাল হয়েছিল। খেজুরি বিধানসভায় দু’নম্বর মণ্ডল সভাপতি রবিন মান্নাকে নিয়ে সেই অডিয়ো ভাইরাল হতেই অস্বস্তিতে পড়ে বিজেপি নেতৃত্ব। এই অডিয়ো ভাইরালের নেপথ্যে খেজুরি-২ মণ্ডলের অপর নেতা তথা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈকত মান্নার হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করে তাঁকে পদ থেকে বহিষ্কার করেছেন মণ্ডল সভাপতি রবিন। এনিয়ে দলের ভিতর আকচাআকচি চরমে উঠেছে। জেলা সভাপতির অনুমোদন ছাড়া এটা করা যায় না বলে পরিষ্কার ভাষায় জানিয়েছেন সৈকত। তাঁর আরও অভিযোগ, মণ্ডল সভাপতি একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছেন। উল্লেখ্য, দিন তিনেক আগে একটি অডিয়ো ভাইরাল হয়। তাতে দু’জনের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়া সংক্রান্ত কথাবার্তা সামনে আসে। বিজেপি সূত্রের খবর, ওই অডিয়োতে বলরাম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে মণ্ডল সভাপতির কথোপকথন রয়েছে। ওই অডিয়ো সূত্র ধরে জানা যায়, চাকরি দেওয়ার নামে ওই ব্যক্তির থেকে টাকা নিয়েছেন মণ্ডল সভাপতি। কিন্তু, সেই টাকা তিনি ফেরত দিচ্ছেন না। এই অবস্থায় বলরাম নামে ওই ব্যক্তি জেলা পার্টির সভাপতির কাছে দরখাস্ত জমা করেছেন। সেই টাকা ফেরত দেওয়া সংক্রান্ত ফোনে উভয়ের কথাবার্তা প্রকাশ্যে চলে আসে। যদিও ওই অডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’। বিজেপির খেজুরি-২ নম্বর মণ্ডলের মধ্যে বীরবন্দর, কামারদা ও কলাগেছিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা পড়ে। এই তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত খেজুরি বিধানসভার মধ্যে রাজনৈতিক দিক থেকে ভীষণ স্পর্শকাতর। রাজনৈতিক হানাহানি ও সন্ত্রাস চলে। পালাবদলের পরই বীরবন্দর সহ কিছু জায়গায় জরিমানা আদায়, জোর করে ভেড়ি থেকে চিংড়ি তুলে নেওয়ার মতো কিছু ঘটনা সামনে এসেছিল। এনিয়ে বিজেপি নেতাদের নিজেদের মধ্যেও ঝামেলা চলছে। তারমধ্যেই মণ্ডল সভাপতির অডিয়ো ঘিরে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। এনিয়ে শাস্তির মুখে পড়া বিজেপি নেতা সৈকত জানা বলেন, আমি দলীয় শৃঙ্খলা মেনে কাজ করা একজন কর্মী। মণ্ডল সভাপতি আমাকে পদ থেকে সরাতে পারেন না। এনিয়ে জেলা সভাপতির কোনো অনুমোদন নেই। জেলা সভাপতির সঙ্গে আমার এনিয়ে কথা হয়েছে। মণ্ডল সভাপতি পার্টিতে একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছেন। অডিয়ো নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। তাতে মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। আর, তাঁকে অযথা টার্গেট করা হলে ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। মণ্ডল সভাপতি রবিন জানাকে এনিয়ে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। খেজুরির বিধায়ক বিজেপির সুব্রত পাইক বলেন, এটা সাংগঠনিক বিষয়। খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। খেজুরি-১ পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি নেতা সৌভিক মণ্ডল বলেন, অডিয়ো ভাইরালের ঘটনায় মণ্ডল সভাপতি সেই মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদককে পদ থেকে সরিয়েছেন বলে শুনেছি। 
  
  

Advertisement


 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ