নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য চার বছরের শিশুর মুখে কাপড় জড়িয়ে ট্রলিব্যাগে ভরে অপহরণ করল প্রতিবেশী ও তার শাগরেদরা। শুক্রবার নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের গোকুলনগর পঞ্চায়েতের শিমুলকুণ্ডু গ্রামের ওই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। ওইদিন বেলা আড়াইটা নাগাদ বাড়ি থেকে প্রায় ছ’কিলোমিটার দূরে ঘোলপুকুর এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিস। প্রতিবেশী বিজয় মণ্ডল, তার স্ত্রী, মা, এক বন্ধু, তার সঙ্গিনী সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ওই ঘটনায় মূল পাণ্ডা বিজয় মদ, সাট্টা, জুয়া ও মাদকে আসক্ত। তার বিরুদ্ধে মোবাইল চুরি, সহ নানা অভিযোগ আগে উঠেছিল। প্রতিবেশী শিশুকে ট্রলিব্যাগে ভরে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার কৌশলে হতবাক সকলেই। এলাকার বাসিন্দারা ওই যুবক সহ ঘটনায় জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন।
জানা গিয়েছে, শিমুলকুণ্ডু গ্রামের বাসিন্দা গৌতম বাঁশি বিভিন্ন দোকানে বেকারির পাউরুটি সাপ্লাই দেন। তেখালি বাজারে তাঁদের একটি চায়ের দোকান আছে। সেই দোকান চালান তাঁর স্ত্রী রমা মণ্ডল বাঁশি। অন্যান্য দিনের মতো শুক্রবার ভোরে গৌতমবাবু সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। রমাদেবী এবং তাঁর শাশুড়িও তেখালির দোকানে রওনা দেন। বাড়িতে ওই দম্পতির ন’বছরের মেয়ে ও চার বছরের ছেলে ঘুমাচ্ছিল। সকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ অভিযুক্ত প্রতিবেশী যুবক, তার স্ত্রী, মা সহ মোট পাঁচজন গৌতমবাবুর বাড়িতে ঢুকে পড়ে। ন’বছরের বালিকার মুখে কাপড় বেঁধে ঘরে আটকে রাখে। তার ভাইয়ের মুখে কাপড় জড়িয়ে একটি ট্রলি ব্যাগে ভরে বাইকে দু’জন নিয়ে বেরিয়ে যায়।
সকাল ৬টা নাগাদ রমাদেবী ফোন পান। তখন তিনি চায়ের দোকানে ছিলেন। ফোন করে বলা হয়, ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। ১৫লক্ষ টাকা দিলে মুক্ত করা হবে। ওই ফোন কেটে দেওয়ার পরই রমাদেবী বাড়ি লাগোয়া তাঁর এক বউদিকে ফোন করে ছেলেমেয়ে ঠিকঠাক আছে কি না জানতে চান। বাড়ি নেই জানার পরই হইচই পড়ে যায়। ওই ঘটনা জানাজানি হতেই আশপাশের এলাকা থেকে লোকজন জড়ো হন। খবর পেয়ে নন্দীগ্রাম থানার পুলিস ঘটনাস্থলে আসে। ওই শিশুর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়। এরমধ্যেই পুলিস জানতে পারে, নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের ঘোলপুকুরে একটি শিশুকে মাঠে পাওয়া গিয়েছে। তারপরই শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, উদ্ধার হওয়া শিশু অপহৃত গৌতমবাবুর ছেলে। তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর দম্পতির হাতে তুলে দেওয়া হয়।