নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: মিথ্যা অভিযোগ এনে সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অপচেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছিল এলাকার দুই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। নিউ বারাকপুর থানায় তাঁদের নামে অভিযোগ দায়ের করেন এলাকাবাসী। সোমবার তাঁদের মধ্যে এক বিজেপি নেতা বারাকপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির অফিসে এসে সভাপতির সঙ্গে দেখা করেন। তারপর দাবি করেন, তিনি এমন কোনো অভিযোগ করেননি। তাঁর নাম ব্যবহার করে কে ওই অভিযোগ করেছে, তাও তিনি জানেন না। বিজেপি জেলা নেতৃত্বেরও দাবি, তারা কারও নাম বাদ দেওয়ার জন্য এভাবে কোনো ফর্ম সেভেন জমা করেননি। এরপর স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কে বা কারা আড়ালে থেকে ভোটার তালিকা থেকে দ্বিশতাধিক সংখ্যালঘু ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য কলকাঠি নাড়ল?
ভোটার তালিকায় থাকা কোনো নাম নিয়ে আপত্তি জানাতে গেলে ফর্ম সেভেন পূরণ করতে হয়। এই ফর্ম সেভেন পূরণ করে দুই বিজেপি কর্মী বিলকান্দা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের তেঘরিয়া মল্লিকপাড়ার ১৯ নম্বর বুথের (খড়দহ বিধানসভা) ২১৫জন সংখ্যালঘু ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই মতো এই ভোটারদের বিডিও অফিসে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। গত শনিবার তাঁরা এনিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরে জানা যায়, এই অভিযোগ করেছিলেন সাজির হাটের বিজেপি কর্মী ভুবনজিৎ মিস্ত্রি।
সোমবার ভূবনজিৎবাবু বারাকপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রবীর রাজবংশীর সঙ্গে দেখা করেন। পরে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমি নিজে এমন কোনো অভিযোগ করিনি। কেউ আমার নাম ব্যবহার করে এই অভিযোগ করেছে কি না, তাও বলতে পারব না। আমি সমাজমাধ্যমে দেখলাম, আমার এক পরিচিত সংখ্যালঘু বন্ধু পোস্ট করেছে। সেই আমাকে বলল, তাঁদের ২৫০ জনের নাম বাদ দেওয়ার জন্য আমি আবেদন করেছি। আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম! আমি বিজেপির কর্মী। কিন্তু নিজের জীবন-জীবিকা নিয়ে থাকি। এমন কোনো অভিযোগ আমি করিনি, সেটা সভাপতিকে জানিয়ে দিয়ে গেলাম।’ প্রবীরবাবু বলেন, ‘বিজেপি চক্রান্ত করে সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। অথচ মল্লিকপাড়ার বাসিন্দারা গত ১০০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছেন। আজ বিজেপির এক নেতা এসে বলছেন, এসব অভিযোগ তিনি দেননি। অর্থাৎ, বিজেপি শুধু সংখ্যালঘু মানুষ নয়, তাদের নিজের দলের কর্মীদেরও ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।’ বিজেপির কলকাতা উত্তর শহরতলি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, ‘আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে কিছু ফর্ম সেভেন জমা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। প্রশাসন তা জমা নেয়নি। এই তথ্য সকলেই জানে। ওই ফর্ম আমাদের কেউ জমা দেয়নি। এসব তৃণমূলের চক্রান্ত।’