


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: কোনো প্ররোচনা ছাড়াই রামনবমীর মিছিল থেকেই হামলা চলল। রামভক্তি প্রদর্শনের নামে শান্ত রঘুনাথগঞ্জ শহরকে শুক্রবার উত্তপ্ত করে দিল গেরুয়া ঝাণ্ডাধারীরা। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেই ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয় ফুলতলা মোড় এলাকায়। দোকান থেকে জিনিসপত্র লুট করেছে তাণ্ডবকারীরা। যেসব পণ্য সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেনি, সেগুলি রাস্তায় বের করে ফেলে ছড়ানো হয়েছে। তারপর দোকান এবং দোকানের সামনের অস্থায়ী ঠেলাগাড়িগুলিকে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। রাস্তায় ছোট যাত্রীবাহী গাড়িতেও ব্যাপক ভাঙচুর করে তাণ্ডব চালায় তারা। ঘটনায় বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। বেশ কিছুক্ষণ ধরে এই তাণ্ডবের ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে জঙ্গিপুর মহকুমা জুড়ে। ঘটনার পর বিশাল পুলিশবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও, গোটা এলাকা থমথমে। রঘুনাথগঞ্জের মূল বাজার এলাকায় দোকানপাট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকেলের পর থেকে ১৬৩ ধারা (পূর্বতন ১৪৪ ধারা) জারি হয়েছে গোটা এলাকায়। সন্ধ্যায় ডিআইজি (মুর্শিদাবাদ রেঞ্জ) অজিত সিং যাদব বিশাল বাহিনী নিয়ে এলাকায় রুটমার্চ করেন। তিনি জানান, হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রঘুনাথগঞ্জ শহরের অন্যতম ব্যস্ত ফুলতলা মোড়ের কাছে মিছিল পৌঁছনোর পর তাণ্ডব শুরু হয়। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে একের পর দোকানে। এই এলাকায় আশপাশে প্রায় কয়েক হাজার দোকান আছে। সেখানে লুটপাট চলে। তাণ্ডব চলাকালীন কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন দোকানদারদের দাবি, যখন গন্ডগোল শুরু হচ্ছে, তখন শুধু দাঁড়িয়ে দেখছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। ঘটনার পর পুলিশ এই বিষয়ে কোনো মুখ খোলেনি। ঘটনায় জখমদের জঙ্গিপুর মহাকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন হামলাকারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এই ঘটনা। যে বা যারাই এই ধরনের শোভাযাত্রায় আয়োজন করে, তাদের আরও দায়িত্ববান নেওয়া উচিত। কেন একটা শোভাযাত্রা থেকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা হবে? কেন এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি বিঘ্নিত হবে? নির্বাচন কমিশনের আওতাধীন এখন সবকিছু। কমিশন এত কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠিয়েছে, কিন্তু তাদের ভূমিকা একদম ঠিক নয়। জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি সুবলচন্দ্র ঘোষ বলেন, এর সঙ্গে বিজেপির কোনো সংযোগ নেই। আমরা হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী। তাই বহু মানুষ এই শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। শোভাযাত্রা চলার সময় নাকি ইট পাটকেল ছোড়া হয়। সেজন্য বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী সক্রিয় থাকলে, এভাবে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটত না।