


নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: বিজেপির হামলায় জখম তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ। সেই খবর পেয়ে আরামবাগের মাটিতে নেমেই তাঁকে দেখতে হাসপাতালে ছুটলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি সাংসদ মিতালি বাগের সঙ্গে কথা বলেন। তখন আরামবাগ শহরের পল্লিশ্রীতে সমাবেশ ঘিরে বিপুল জমায়েত। জখম সাংসদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেই সভাস্থলে গিয়ে অভিষেক বলেন, ‘সিপিএমের হার্মাদগুলো জামা পালটে পদ্ম ফুলের দলে ঢুকেছে। সিপিএমের হার্মাদরাই এখন বিজেপির জল্লাদ হয়েছে। যারা মিতালির উপর আক্রমণ করেছে। সিসিটিভি ক্যামেরা দেখে বেছে বেছে বের করব।’
এদিন দুপুর ৩টেয় অভিষেকের সভা হওয়ার কথা ছিল। মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে তাঁর এই কর্মসূচি ঠিক হয়। তাও বহু মানুষ সেখানে ভিড় করেন। পৌনে ৩টে নাগাদ পল্লিশ্রীতে স্থায়ী হেলিপ্যাডে নেমেই তাঁর সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, সমাবেশে না গিয়ে অভিষেকের কনভয় ছুটল আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। জখম সাংসদ তখন মেডিকেলের সিসিইউ বিভাগে চিকিৎসাধীন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে হাসপাতালে যান আরামবাগের তৃণমূল প্রার্থী মিতা বাগও। হাসপাতালের ভিতরে সাংসদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন অভিষেক। ৩টে ১৫ নাগাদ তিনি সমাবেশে যোগ দেন।
অভিষেক বলেন, হরিণঘাটা থেকে ধনিয়াখালি যাওয়ার পথে মিতালি বাগের উপর আক্রমণের খবর পাই। আরামবাগে এসেই মেডিকেলে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করলাম। এরপরই তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেন, মিতালির উপর আক্রমণ করে বিজেপি যখন খেলা শুরু করেছে, শেষটা আমিই করব। আমার নজর সবার উপরেই রয়েছে। যারা ভাবছে মিতালির উপর আক্রমণ করেছে তাদের আমরা জানি না। তারা ভুল করছে। সোমাশ্রী, সোমাশ্রীর স্বামী, সৌমেন পাল, দোলন, এই চারজন প্রাথমিকভাবে যুক্ত। আরও যারা যুক্ত তাদের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে বের করব।
তিনি আরও বলেন, আমরা গতবারও আরামবাগ মহকুমার চার আসনে হেরেছিলাম। কিন্তু, উদারতায় ওরা পার পেয়ে গিয়েছিল। এবার আমি নিজে দায়িত্বে থাকব। ৪ তারিখ ১২টার পর কোন জল্লাদের কত ক্ষমতা, আর কার দিল্লির বাবা কাকে বাঁচাতে আসে আমি দেখব। যারা মিতালির উপর আক্রমণ করেছে, তাদের জীবন আগামী দিন খুব কঠিন হতে চলেছে। আমি সতর্ক করে গেলাম।
অভিষেক অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আরামবাগের মানুষ কি সিপিএমের অনুন্নয়ন আর কালো সন্ত্রাসের দিনগুলো ভুলে গিয়েছে? শমিক ভট্টাচার্যের হাত ধরে অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বসু বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। এসব কি আরামবাগের মানুষ মেনে নেবেন? তিনি বলেন, মিতা বাগ মাটির মানুষ। তাঁর জীবনযাপন আপনারা দেখেছেন। আরামবাগে তৃণমূলের জেতা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। আমি অনুরোধ করব, মাথা উঁচু করে ভয়কে জয় করুন। এখন ভয় পেলে সিপিএমের হার্মাদরা পাঁচ বছর ভয় দেখাবে। আর তৃণমূলকে জেতালে পাঁচ বছর শান্তি বিরাজ করবে। আরামবাগে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার দায় দায়িত্ব আমাদের। তৃণমূলেরকে এমনভাবে ভোট দেবেন যেন বিজেপির পতাকা ধরার লোক না থাকে। অভিষেক বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বদলা নয়, বদল বলেছিল। এটা ভুল ছিল। যদি বদলা হত, তাহলে সিপিএমের হার্মাদদের দূরবীন দিয়েও দেখা যেত না।