Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানে হামলা, ‘আত্মরক্ষা’র সাফাই আমেরিকার, কাতারে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির দাবি

সংঘর্ষ বিরতি ও শান্তি আলোচনার  মধ্যেই ফের বিক্ষিপ্ত হামলা। আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানে হামলা, ‘আত্মরক্ষা’র সাফাই আমেরিকার, কাতারে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির দাবি
  • ২৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০

ওয়াশিংটন ও দুবাই: সংঘর্ষ বিরতি ও শান্তি আলোচনার  মধ্যেই ফের বিক্ষিপ্ত হামলা। আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। বন্দর আব্বাস শহরে তেহরানের মিসাইল কেন্দ্র ও হরমুজ প্রণালীতে মাইন পাতার নৌকাগুলিকে নিশানা বানানো হয়েছে। তবে এর ফলে সংঘর্ষ বিরতিতে কোনো প্রভাব পড়বে না। ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি থেকে কেবল ‘আত্মরক্ষা’র স্বার্থে এই হামলা চালানো হয়েছে। যদিও এই দাবি খারিজ করে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের বায়ুসেনা বাহিনীর প্রধান সৈয়দ মাজিদ মুসাভি সাফ জানিয়েছেন, আমেরিকার এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। এদিনের হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজেদের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন গুলি করে নামানোর দাবি করে ইরান । একইসঙ্গে তারা জানায়,  একটি আরকিউ-৪ ড্রোন ও এফ-৩৫ ফাইটার জেট লক্ষ্য করেও গুলি চালানো হয়েছে। তবে নতুন করে এই বিক্ষিপ্ত অশান্তির মধ্যেই অবশ্য কাতারের দোহায় চলা শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক আগ্রগতি হয়েছে বলেও জানাচ্ছেন ইরানের আলোচনাকারীরা। আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে পাকাপাকি যবনিকা টানার চুক্তি পাকা করতে শান্তি আলোচনা চলছে। মধ্যস্থতাকারী কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে দোহায় এসেছেন ইরানের প্রতিনিধিরা।

Advertisement

শান্তি আলোচনায় ‘অগ্রগতি’র রিপোর্টের মধ্যেই ইরান ও আমেরিকা— বিবাদমান দুই দেশই দাবিদাওয়া আদায়ে পরস্পরের উপর চাপ বৃদ্ধির কৌশল নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ইরান তাদের পরিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম (পরমাণু ধূলি) ধ্বংসের লক্ষ্যে হয় আমেরিকার হাতে তুলে দেবে, নয়তো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে নিজেরাই তা ধ্বংস করবে বলে আশা করছি। ইরান আবার দাবি জানিয়েছে, শান্তি চুক্তি পাকা করতে হলে তাদের ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের ‘ফ্রিজ’ হওয়া তহবিল আমেরিকাকে মুক্ত করতে হবে। এর অর্ধেক অর্থ চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ও বাকিটা ৬০ দিনের মধ্যে ইরানকে ফিরিয়ে দিতে হবে। দু’পক্ষের এই চাপানউতোরের মধ্যেই প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তি নিয়ে কথা বলতে দোহায় রয়েছেন ইরানের মুখ্য আলোচনাকারী, বিদেশমন্ত্রী ও  সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নর আবদুল নাসের হিম্মতি। ইরানের একটি সূত্র থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনার প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হয়েছে। তবে আমেরিকা বিশ্বাসযোগ্য দেশ নয় বলে প্রতি পদে চরম সতর্কতা নিয়ে এগচ্ছে তেহরান।

সম্পর্কিত সংবাদ