আতলেতিকো- ১ : আর্সেনাল- ১
আতলেতিকো- ১ : আর্সেনাল- ১
মাদ্রিদ: মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে প্যারিসে দেখা গিয়েছিল অবিশ্বাস্য লড়াই। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগে পিএসজি বনাম বায়ার্নম মিউনিখ ম্যাচের পরতে পরতে ছিল উত্তেজনা। ৯ গোলের থ্রিলার শেষে গোটা স্টেডিয়াম উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানিয়েছিল। অথচ বুধবার দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগে দেখা মিলল পুরোপুরি ভিন্ন চিত্র। ম্যাড়ম্যাড়ে ফুটবল আর দুই কোচ অতি-রক্ষণাত্মক স্ট্র্যাটেজি ক্রমশ বিরক্তি বাড়িয়েছে। ঘরের মাঠ মেট্রোপলিটানোয় শুরুতে পিছিয়ে পড়েও আর্সেনালের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করল আতলেতিকো মাদ্রিদ। ম্যাচে দু’টি গোলই আসে পেনাল্টি থেকে। গানারদের হয়ে জাল কাঁপান ভিক্টর গোয়কারেস। আতলেতিকোর গোলদাতা জুলিয়ান আলভারেজ। প্রথম লেগ ড্র হওয়ায় ফিরতি লেগের জয়ী দল পৌঁছাবে ফাইনালে। আগামী ৫মে এমিরেটস স্টেডিয়ামে ফের মুখোমুখি হবে দু’দল।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আসরে বুধবারই প্রথমবারের জন্য একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল আতলেতিকো ও আর্সেনাল। দু’দলই অতীতে টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠলেও খেতাব জয়ের স্বাদ পায়নি। এবার সেই অধরা মাধুরী পেতে মরিয়া তারা। চলতি আসরে আরও একবার দুরন্ত শুরু করেছে আর্সেনাল। টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত অপরাজিত তারা। গতবার শেষ চারের লড়াইয়ে দু’লেগে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল গানারদের। অ্যাওয়ে ম্যাচে দুর্গ অক্ষত রাখাই প্রথম লক্ষ্য ছিল মিকেল আর্তেতার। সেই মত রক্ষণ সামলে ম্যাচে আক্রমণের পথে হাঁটে তারা। উলটো দিকে আতলেতিকোও ঘরের মাঠে খুব বেশি ঝুঁকি নেয়নি। প্রথমার্ধের ঠিক আগেই বক্সের মধ্যে ফাউল করে আর্সেনালকে পেনাল্টি উপহার দেন ডেভিড হ্যাঙ্কো। স্পটকিক থেকে জাল কাঁপাতে ভুল করেননি গোয়কারেস (১-০)।
প্রথমার্ধে দল পিছিয়ে পড়তেই বিরতির পর স্ট্র্যাটেজিতে বদল আনেন ডিয়েগো সিমিওনে। গুইলিয়ানোর পরিবর্তে নরম্যান্ডকে এনে প্রান্তিক আক্রমণে চাপ বাড়ান তিনি। ফলস্বরূপ ৫৭ মিনিটে পালটা পেনাল্টি অর্জন করে আতলেতিকো। যা থেকে দলকে সমতায় ফেরান আলভারেজ (১-১)। এরপর গ্রিজম্যানের শট ক্রসবারে ধাক্কা খায়। এই পর্বে আতলেতিকোর দাপট ছিল বেশি। তবে ৭৮ মিনিটে খেলার গতির বিপরীতে ফের একবার পেনাল্টি পায় আর্সেনাল। এবার অবশ্য ভারের সাহায্য নিয়ে তা বাতিল করেন রেফারি। এই নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে গানাররা। ম্যাচ শেষে আর্তেতা বলেন, ‘চলতি আসরে এমন পরিস্থিতিতে আমাদের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত গিয়েছিল। অথচ আজ রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েও তা পালটানো হয়। ১৩বার ভিডিও দেখার পরও কীভাবে তিনি পেনাল্টি বাতিল করলেন, তা সত্যিই আশ্চর্যের।’