নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতায় একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। উত্তর কলকাতার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার মীরা হাজরার বিরুদ্ধে আশ্চর্যজনক অভিযোগ জমা পড়ল জোড়াবাগান থানায়। এক বাসিন্দার বাড়ির সামনের গঙ্গার কল সরানোর জন্য এক লক্ষ টাকা তোলা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৎকালীন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, তোলা নয়, আস্ত জমি দখল করার অভিযোগ উঠেছে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র তথা কাশীপুর বেলগাছিয়া বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক অতীন ঘোষের বিরুদ্ধে। বিধাননগর উত্তর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন জমির মালিক। সেই মামলায় অভিযুক্ত অতীন-কন্যা প্রিয়দর্শিনী ঘোষ বাওয়াও। পুলিশ সূত্রে খবর, দু’টি মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। এই খবর লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকেই গ্রেপ্তার করেনি।
সল্টলেকের একটি হোটেলের জমি দখলের অভিযোগ তুলে কলকাতা পুলিশের প্রগতি ময়দান থানার দ্বারস্থ হন জমির মালিক তথা ব্যবসায়ী। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল আমলে সল্টলেকের একটি জমি প্রতারণা করে দখল করেন অতীন ঘোষ ও তাঁর মেয়ে প্রিয়দর্শিনী। সোমবার রাতে ওই ঘটনায় প্রগতি ময়দান থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন অভিযোগকারী। কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাস্থল বিধাননগর উত্তর থানার অধীনস্ত হওয়ায় জিরো এফআইআর করে অভিযোগপত্রটি সেখানে পাঠিয়ে দেয় কলকাতা পুলিশ। বিধাননগর পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। কীভাবে জমি দখল হল, কোনো আর্থিক লেনদেন ছিল কি না, সবটাই তদন্তসাপেক্ষ। এ প্রসঙ্গে, অতীন-কন্যা প্রিয়দর্শিনী বলেন, ‘অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই সম্পত্তির সঙ্গে অতীন ঘোষের কোনো সম্পর্ক নেই। আমার ও আমার শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তি। উইল করা আছে। আদালতে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ দেব। অভিযোগকারী রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।’
অন্যদিকে, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার মীরা হাজরার বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি। অভিযোগকারীর নাম শ্যামবাবু সাউ। তিনি কলকাতা পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকার স্ট্র্যান্ড রোডের বাসিন্দা। তাঁর বাড়ির সদর দরজার সামনেই ছিল গঙ্গার কল। সেই কল সরানোর জন্য তৎকালীন পুর প্রতিনিধির কাছে অনুরোধ করেছিলেন শ্যামবাবু। সেই কল সরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মীরাদেবী। কিন্তু, ওই কল সরানোর জন্য তিনি এক লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন। আদতে ‘তোলা’ চেয়েছিলেন তৎকালীন জনপ্রতিনিধি, এমনটাই অভিযোগ বাড়ির মালিকের। কিন্তু, টাকা দিলেও কাজের কাজ হয়নি। অভিযোগকারীর দাবি, টাকা নিয়েও প্রতিশ্রুতি মতো কাজ করেননি ওই কাউন্সিলার। কাজ না হওয়ায় ওই টাকা ফেরত চান শ্যামবাবু। অভিযোগ, এর পরিবর্তে তাঁকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগকারীর দাবি, তখন সরকারে তৃণমূল থাকায় থানার দ্বারস্থ হওয়ার সাহস পাননি। সরকার বদল হতেই প্রায় দেড় বছর পর জোড়াবাগান থানায় ওই প্রাক্তন কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, প্রতারণা ও খুনের হুমকির অভিযোগ করেন।