নয়াদিল্লি: চলতি বর্ষায় গোটা দেশের নানা প্রান্তে বন্যা পরিস্থিতির বেহাল চিত্র। একদিকে উত্তর-পূর্বের রাজ্য অসম তো অন্যদিকে দক্ষিণী কেরল। শুক্রবার পর্যন্ত অসমে বন্যাবিধ্বস্ত এলাকায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২। সে রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলা দলের তরফে এমনটাই জানানো হয়েছে। শুধুমাত্র শিবসাগর জেলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪২ জন। এছাড়া চরাইদেও জেলায় ২১ জন এবং জোরহাটে ৯ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, শিবসাগর ও জোরহাটের পাশাপাশি গোলাঘাট, নগাঁও এবং চরাইদেও মিলিয়ে দুর্গতের সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার। চলতি বন্যার ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যের অন্তত ২৫টি জেলা।
অন্যদিকে শুক্রবার রাতে মধ্য কেরলের ইদ্দুকি ও কোয়াট্টাম জেলায় হড়পা বানে চারজনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় আবহাওয়া দপ্তর অতিভারী বৃষ্টির পূর্ভাবাস দিয়েছে। ইদ্দুকি ও কোয়াট্টাম ছাড়াও তালিকায় রয়েছে ত্রিশূর, পাঠনমথিত্তা, মালাপ্পুরম, কোঝিকোড়ে, ওয়েনাড়, কান্নুর ও কাসারাগোড়। এছাড়া এর্ণাকুলম, পালাক্কাড়, তিরুবন্তপুরম, কোল্লাম এবং আলাপুড়া জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশান বলেন, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা দলের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন এজেন্সি উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিযুক্ত রয়েছে।
গুজরাতেও শুক্রবার বৃর্ষণজনিত বিপর্যয়ে চারজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। নভসারি জেলায় জমা জলের পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে তড়িদাহত হয়ে প্রাণ হারান তিন শ্রমিক। এছাড়া আনন্দ জেলায় ১১ বছরের এক কিশোরী খালের জলে ভেসে গিয়েছে।
অন্যদিকে শনিবার ভোররাতে কাশ্মীরের কিস্তোয়ারে ছত্রুতে মেঘ ভাঙা বৃষ্টির ফলে হড়পা বানে ভেসে যায় একাধিক এলাকার ঘরবাড়ি। কিস্তোয়ারের পাশাপাশি চেনাব উপত্যকা, দোদা ও রামবন জেলাতেও অবিরাম বৃষ্টিতে স্কুল ও সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কিস্তোয়ার-ছত্রু-সিনথান জাতীয় সড়ক ধসে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দু’টি গাড়ি ঝরনার জলে ভেসে যাওয়ার খবর মিলেছে।