Bartaman Logo
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নন্দীগ্রামে বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল অন্তত ৬০টি দোকান

শুক্রবার নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বুলডোজার দিয়ে বহু দোকানপাট ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন। অন্তত ৬০টি দোকান উচ্ছেদ করে বাসস্ট্যান্ড এলাকাকে ফাঁকা করে দেওয়া হল।

নন্দীগ্রামে বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল অন্তত ৬০টি দোকান
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: শুক্রবার নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বুলডোজার দিয়ে বহু দোকানপাট ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন। অন্তত ৬০টি দোকান উচ্ছেদ করে বাসস্ট্যান্ড এলাকাকে ফাঁকা করে দেওয়া হল। এনিয়ে সাময়িক উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়ালেও সেসব নিয়ন্ত্রণ করে দেয় পুলিশ। শুক্রবার সকাল ১০টা নাগাদ প্রচুর সংখ্যায় পুলিশ বাহিনী নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড চত্বরে পৌঁছে যায়। উপস্থিত ছিলেন থানার আইসি অজয় মিশ্র। দু’ঘণ্টার মধ্যে কাঠামো সরিয়ে নেওয়ার জন্য দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। দুপুর ১২টা বাজতেই বুলডোজার দিয়ে অন্তত ৬০টি দোকানের কাঠামো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। নন্দীগ্রাম সীতানন্দ কলেজের সামনে ভাঙা পড়ে তৃণমূল নেতা শেখ বাইতুলের সুসজ্জিত কার্যালয়। সরকারি জায়গায় শ্বশুরের কাঠের দোকানের পিছনে টাইলস, ফলস সিলিং লাগানো ছিমছাম ঘর তৈরি করেছিলেন ওই তৃণমূল নেতা। সেটি তাঁর কার্যালয় হিসাবে ব্যবহৃত হত। বুলডোজারের ধাক্কায় সেই কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড থেকে টেঙ্গুয়া পর্যন্ত রাস্তার ধারে জবর দখল থাকায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের(এডিবি) জল প্রকল্পের পাইপ লাইন বসানো যাচ্ছিল না। এজন্য প্রায় দু’মাস আগে একদফায় বুলডোজার চালিয়ে ভাঙচুর হয়েছিল। তারপরেও বেশকিছু দোকানপাট থেকে যায়। আবার, অনেকে কিছুটা পিছিয়ে ফের দোকানপাট আগের মতোই খুলে বসেছিলেন। সম্প্রতি প্রশাসনের তরফে বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে দোকানপাট ও অন্যান্য নির্মাণ ভাঙার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং হয়। বৃহস্পতিবারের মধ্যে ওইসব নির্মাণ সরাতে হবে বলে মাইকিং হয়। তারপর শুক্রবার অভিযান শুরু হয়।
স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, এরআগে বুলডোজার চলেছিল। বেশকিছু দোকানপাট ভাঙা পড়ে। এছাড়া, সেই সময় বাজার কমিটির সঙ্গে আলোচনার সাপেক্ষে রাস্তা ধার থেকে একটু পিছিয়ে দোকানঘর বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বাজার কমিটির সঙ্গে আলোচনার পর আমরা প্রায় চার হাত পিছিয়ে দোকান করি। তারপর আবার ভাঙার জন্য নোটিস দেওয়া হয়। বাসস্ট্যান্ড থেকে টেঙ্গুয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ হবে বলে বলা হয়েছিল। কিন্তু, বাস্তবে দেখছি শুধুমাত্র বাসস্ট্যান্ড চত্বরেই ভাঙা হচ্ছে। আমাদের প্রশ্ন, টেঙ্গুয়া পর্যন্ত সরকারি জমির উপর রাস্তার ধারে দোকানেও বুলডোজার চলবে তো?
এদিন তৃণমূল নেতা বাইতুলের কার্যালয় ভাঙার সময় উপস্থিত বিজেপি কর্মীরা চিৎকার করেন। সংবাদ মাধ্যমের সামনে ওই তৃণমূল নেতা বিবৃতি দিতে গেলে সাময়িক উত্তেজনা পরিস্থিতির তৈরি হয়। নন্দীগ্রাম-১পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্যামল সাউ, নন্দীগ্রাম-২মণ্ডল কমিটির সভাপতি সুদীপ দাস সহ অন্যান্য নেতৃত্ব ও কর্মীরা এদিন উপস্থিত ছিলেন। শ্যামলবাবু বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামকে নতুন করে সাজাতে চাইছেন। পানীয় জলের পাইপ লাইন পাতা সহ অন্যান্য পরিকাঠামোর কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল পূর্তদপ্তরের ‌জায়গার উপর এসব নির্মাণ। এদিন সেসব সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ