Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬

ভারতের প্রত্যাঘাতে অন্তত ৪০ পাক সেনার মৃত্যু

ভারতের প্রত্যাঘাতে অন্তত ৪০ পাক সেনার মৃত্যু
  • ১২ মে, ২০২৫ ০৪:০০

নয়াদিল্লি: ভারতের প্রত্যাঘাতে তিন দিনে পাকিস্তানি সেনার অন্তত ৪০ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছে। পাকিস্তানের হামলায় শহিদ হয়েছেন পাঁচ জওয়ান রবিবার বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সেনা। এদিন দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিন বাহিনীর কর্তারা। উপস্থিত ছিলেন ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই, এয়ার মার্শাল অবধেশকুমার ভারতী, ভাইস অ্যাডমিরাল এ এন প্রমোদ এবং মেজর জেনারেল সন্দীপ এস সারদা। ভারতের প্রত্যাঘাতে পাকিস্তানের কী কী ক্ষতি হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ দেন তাঁরা। সেনাকর্তারা জানিয়েছেন, অপারেশন সিন্দুরের প্রথম দিনে ভারতীয় বায়ুসেনা মোট ন’টি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালায়। কোনও সেনা ঘাঁটি বা সাধারণ মানুষের বাড়ির যাতে ক্ষতি না হয়, তার দিকে বিশেষ নজর রাখা হয়েছিল। নিখুঁত সেই প্রত্যাঘাতে একশোর বেশি জঙ্গি খতম হয়েছে। কিন্তু ৭ মে সন্ধ্যায় পাকিস্তান ঝাঁকে ঝাঁকে আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকেলস (ইউএভি) ও ছোট ড্রোন ভারতের দিকে পাঠাতে শুরু করে। এই ইউএভি ও ড্রোনের লক্ষ্য ছিল ভারতের সেনাঘাঁটি ও সাধারণ মানুষ। সেই আক্রমণ ভারতের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সফলভাবে আটকে দিতে সক্ষম হয়। তিনটি ড্রোন মাটিতে আছড়ে পড়লেও তাতে বিশেষ ক্ষতি হয়নি। কয়েকটি পাক যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে। 

Advertisement

সেনার তরফে এদিন আরও বলা হয়েছে, ভারত শুধু জঙ্গিদেরই টার্গেট করেছিল, আর পাকিস্তান সাধারণ মানুষ আর সেনাকে লক্ষ্যবস্তু করে। তাই পাকিস্তানের আক্রমণের জবাব দেওয়া প্রয়োজন ছিল। ভারত জবাবে লাহোর ও গুজরানওয়ালায় অবস্থিত রাডার সিস্টেমে আঘাত হেনেছে। যদিও এভাবে হামলার উদ্দেশ্য ভারতের ছিল না।
শুধু আকাশপথ নয়, স্থলপথেও পাকিস্তানের আক্রমণ ঠেকাতে ভারত একাধিক পদক্ষেপ করেছে বলে ডিজিএমও জানিয়েছেন। তিনি জানান, নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারতের গুলিতে ৩৫-৪০ জন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। এয়ার মার্শাল জানিয়েছেন, পাকিস্তান ড্রোন পাঠিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার বিভিন্ন পরিকাঠামোয় আক্রমণের চেষ্টা করেছিল। একটি আক্রমণও সফল হয়নি। তিনি জানান, এরপরই পাল্টা আঘাতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দ্রুত, সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত আক্রমণে পুরো পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তানের বিমান ঘাঁটি, কম্যান্ড সেন্টার ও পরিকাঠামোতে আঘাত হানে ভারতীয় বায়ুসেনা। এদিন সেই প্রত্যাঘাতের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেনাকর্তা স্পষ্ট ঘোষণা করেন, কোনও আগ্রাসন মেনে নেওয়া হবে না। ভারতীয় ভূখণ্ডে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলা চালালে তার চড়া মাশুল চোকাতে হবে।
অপারেশন সিন্দুর ও তার পরবর্তী সময়ে ভারতীয় নৌসেনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানিয়েছেন ভাইস অ্যাডমিরাল প্রমোদ। তিনি জানান, আরব সাগরে ভারতের যুদ্ধজাহাজ চাপ সৃষ্টি করায় অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন পাক নৌসেনা বন্দর বা উপকূলেই থাকতে বাধ্য হয়েছিল। তিনি জানান, নৌবাহিনীর ক্যারিয়ার ব্যাটেল গ্রুপ, সাবমেরিন, যুদ্ধবিমান সহ যাবতীয় শক্তিকে আরব সাগরে মোতায়েন করা হয়েছিল। ভাইস অ্যাডমিরাল আরও জানিয়েছেন, নৌসেনা এখনও যে কোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। করাচি বন্দর সহ পাকিস্তানের ভূখণ্ড, জলসীমায় যে কোনও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে তৈরি রয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ