Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চরম ব্যস্ততায় জ্যোতিষীরা, কান্দিতে ২০০০ দক্ষিণা দিলেই মিলছে মনোনয়নের শুভক্ষণ

খনার বচন আছে, ‘মঙ্গলে উষা বুধে পা, যথা ইচ্ছা তথা যা।’ কান্দি মহকুমার চার কেন্দ্রের প্রার্থীদের অনেকেরই এখন সেই অবস্থা

চরম ব্যস্ততায় জ্যোতিষীরা, কান্দিতে ২০০০ দক্ষিণা দিলেই মিলছে মনোনয়নের শুভক্ষণ
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:০৪
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: খনার বচন আছে, ‘মঙ্গলে উষা বুধে পা, যথা ইচ্ছা তথা যা।’ কান্দি মহকুমার চার কেন্দ্রের প্রার্থীদের অনেকেরই এখন সেই অবস্থা। তাঁরা জ্যোতিষীদের পরামর্শ মেনে মেপেঝুপে পা ফেলছেন। স্বভাবতই কান্দির জ্যোতিষীদের পোয়াবারো। প্রার্থীর লাইন লেগে গিয়েছে তাঁদের চেম্বারে। ভোটে জিততে জ্যোতিষীদের নির্দেশ মতো মেপে পদক্ষেপ করছেন সবাই। কোন দিকে যেতে হবে, কোন সময়ে প্রচার শুরু করতে হবে, কতক্ষণ প্রচার করতে হবে সবই বলে দিচ্ছেন জ্যোতষীরা। তাঁদের নির্দেশ মতোই চলছেন প্রার্থীরা। প্রতিবার গণনা করে দিনক্ষণ, দিকনির্দেশ বলে দিতে দু’ হাজার টাকা করে দক্ষিণা নিচ্ছেন তাঁরা। 

Advertisement

স্থানীয় জ্যোতিষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, একদশক আগে কান্দি মহকুমার মতন প্রত্যন্ত এলাকায় এসব চল ছিল না। সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেই ভোটের প্রচারের পরিকল্পনা, রণকৌশল তৈরি করা হতো। তবে এখন তার পাশাপাশি জ্যোতিষীদের পরামর্শও নিচ্ছেন প্রার্থীরা। গত পঞ্চায়েত ভোটের সময় থেকেই কান্দিতে জ্যোতিষশাস্ত্রের উপর ভরসা বেড়েছে ভোট প্রার্থীদের। অনেকেই নাকি এর উপকার পেয়েছেন বলে দাবি।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কান্দি মহকুমার চারটি কেন্দ্রের প্রার্থীদের অনেকেই জ্যোতিষীদের শরণাপন্ন হচ্ছেন বলে দাবি। বড়ঞা ব্লকের পাঁচথুপী গ্রামের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত জ্যোতিষী অজিতকুমার শাস্ত্রী বলেন, জ্যোতিষশাস্ত্রে ভালোমন্দ সবকিছুই আছে। সঠিক মাহেন্দ্রক্ষণ জেনে কাজ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে কান্দির মতো এলকায় আগে এসব ছিল না। তিনি বলেন, এবছর মহকুমার চার কেন্দ্রের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কয়েকজন প্রার্থী আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। মাহেন্দ্রক্ষণ জেনে তাঁরা প্রচারে বের হচ্ছেন। আশানুরূপ ফলও পাচ্ছেন।
ভরতপুরের জ্যোতিষী দেবব্রত গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ঘটনা একেবারে সঠিক। প্রার্থীদের ভাগ্য সহায়, দিক নির্ণয়, সময় গণনা করতেই সময় চলে যাচ্ছে। এখন কাজের ভীষণ চাপ। একদিনের গণনা করে দিতে পারলেই দু’ হাজার টাকা দক্ষিণা মিলছে। রোজগার বেড়েছে।
কান্দি শহরের এক জ্যোতিষী বলেন, কান্দি কেন্দ্রের এক প্রার্থী নিজেই দুজন জ্যোতিষীকে সঙ্গে রেখে দিয়েছেন। তাঁরা প্রতিনিয়ত ফোনের মাধ্যমে প্রার্থীকে জানিয়ে দিচ্ছেন কী করতে হবে, কোন দিকে, কোথায় যেতে হবে। আর সেই নির্দেশ মতো প্রার্থী প্রচারও করছেন। যে কারণে পূর্ব নির্ধারিত শিডিউল থাকা সত্ত্বেও প্রার্থী সঠিক সময়ে নির্দিষ্ট জায়গায় প্রচার করছেন না। পরিবর্তে অন্য জায়গায় যাচ্ছেন।  খড়গ্রাম কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী আশিস মার্জিত বলেন, জ্যোতিষশাস্ত্র উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। তবে জনগণই আমার বল। জ্যোতিষী নয়, জনগণই আমার ভাগ্য নির্ধারক বলে মনে করি। বড়ঞা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুখেন কুমার বাগদি বলেন, শাস্ত্রমতে কাজ করলে তা বিফলে যায় না। জ্যোতিষী বা গণৎকারের সাহায্য নিলে কোনো অন্যায় হয় না। কাজেই কোনো প্রার্থী যদি জ্যোতিষীদের সাহায্য নিয়ে থাকে তো খারাপ কিছু নেই।

সম্পর্কিত সংবাদ