রাজীব বর্মন • দেওয়ানহাট
রাজীব বর্মন • দেওয়ানহাট
শিয়রে সমন! কয়েকপুরুষ ধরে বাংলার বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও কি শেষ পর্যন্ত বিজেপি সরকারের ‘কাগজ দেখাও’ নীতির শিকার হতে হবে? বিজেপি শাসিত অসম সরকারের চিঠি পেয়ে মাথায় হাত দিনহাটার সীমান্ত গ্রাম সাদিয়ালেরকুঠি গ্রামের উত্তমকুমার ব্রজবাসীর। তাঁর মাথায় চেপে বসেছে, ভিটেমাটি হারিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে যাওয়ার আতঙ্ক।
কী আছে সমনে? ১৯৬৬ থেকে ’৭১ সালের মধ্যে অসম হয়ে অনুপ্রবেশ করেছেন। ওই সময়কালে তিনি ভারতীয় নাগরিক ছিলেন, ১৫জুলাইয়ের মধ্যে তার উপযুক্ত প্রমাণের কাগজপত্র না পাঠালেঅনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশ্চর্যজনকভাবে উত্তমকুমারের বয়স এখন প্রায় ৫০। ফলে ১৯৬৬ সালে তাঁর জন্মই হয়নি! বংশপরম্পরায় দিনহাটার বাসিন্দা। তারপরেও ছ’মাস আগে অসম সরকারের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল আইনে অনুপ্রবেশের নোটিস পেয়েছেন উত্তমকুমার।এত পুরনো কাগজ কোথায় পাবেন,তা নিয়ে ভেবে ঘুম ছুটেছে তাঁর। বিষয়টি নিয়ে জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন নিয়ে হাজির হয়েছেন দিনহাটা-২ ব্লকের চৌধুরীহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের এই বাসিন্দা।
উত্তমকুমারের কথায়, গত জানুয়ারিতে ওই নোটিস হাতে পাই।প্রতিবেশীদের সেটি দেখিয়ে জানতে পারি অসম সরকার আমাকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে নোটিস পাঠিয়েছে। আমি তো অসমে কখনও যাইনি। তা সত্ত্বেও আমায় কেন এ ধরনের নোটিস পাঠানো হল,তা মাথায় ঢুকছে না। নোটিসে বলা হয়েছে, ১৯৬৬ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে অবৈধভাবে অসম সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন উত্তমকুমার। ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে উপযুক্ত কাগজপত্র না দিলে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে জানিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন উত্তমকুমার।
এবিষয়ে তাঁর আইনজীবী অপূর্ব সিনহা জানান, এই কেসটি অসম সরকার ২০১৫ সালে শুরু করে। কিন্তু সেই নোটিসটি ন’বছর পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে কোচবিহার জেলা পুলিস সুপারের দপ্তরে পৌঁছয়। পরবর্তীতে জেলা পুলিস প্রশাসনের তরফে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে উত্তমকুমার এই চিঠিটি পান। ইতিমধ্যে ভারতীয় নাগরিক প্রমাণ করার জন্য যেসমস্ত কাগজপত্র পেশ করা হয়েছে, সেগুলি বেশিরভাগই নাকচ করে দিয়েছে অসম সরকার। তারপর ১৯৬৬ সাল থেকে উত্তমকুমারের বাবার নাম ধারাবাহিকভাবে ভোটার লিস্টে আছে কিনা, সেটা জানতে চেয়েছে অসম সরকার। কিন্তু জেলা এবং রাজ্য প্রশাসনও ১৯৬৬ সালের পর থেকে প্রত্যেক বছরের ভোটার তালিকা দিতে পারছে না। এদিকে, হাতে আর বেশি সময়ও নেই।
আপাতত, ১৯৬৬ ও ’৮৮ সালের ভোটার তালিকায় জোগার করতে পেরেছেন উত্তমকুমারের আইনজীবী। কিন্তু, টানা কয়েক বছরের ভোটার তালিকা কীভাবে জোগাড় করা যাবে, তা নিয়ে এখন মাথার চুল ছেঁড়ার উপক্রম হয়েছে। কোচবিহারের জেলাশাসক অরবিন্দ কুমার মিনাকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। বাংলার বাসিন্দাদের বিজেপি সরকার পরিকল্পনা করে হেনস্তা করছে বলে সুর চড়িয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ। তাঁর মন্তব্য, এভাবে যদি বাংলার মানুষকে অপদস্থ করা হয়, তাহলে ছেড়ে কথা বলা হবে না। কারও ক্ষমতা নেই উত্তমকুমার ব্রজবাসীকে বাংলা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া বা পুশব্যাক করার। নিজস্ব চিত্র