গুয়াহাটি: অসমে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়ানক হয়ে উঠছে। চলতি মরশুমে বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০। ইতিমধ্যে উদ্ধারে নেমেছে ভারতীয় সেনা। অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন জল রাহত’। সেনা সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত দু’শোরও বেশি আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে।
শিবসাগর, চরাইদেও এবং জোরহাট জেলায় স্পিয়ার কর্পস-এর অধীন রেড শিল্ড ডিভিশনের চারটি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে চিকিৎসক দল, ত্রাণসামগ্রী। বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও ড্রোন মারফত নজরদারি চালানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে বিপদের মধ্যেও আশার আলো দেখিয়ে শিবসাগর জেলার চা-বাগানের কারখানায় জন্ম নিল শিশু। মঙ্গলবার টি অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বন্যার জল বেড়ে যাওয়ায় এক অন্তঃসত্ত্বা শ্রমিককে সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে চা-কারখানার মধ্যেই তাঁর প্রসব করাতে হয়। টি অ্যাসোসিয়েশন আরও জানিয়েছে, ডোরিকা নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নজিরা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ চা-বাগান প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বামনপুখুরি চা-বাগান। প্রায় সব চা-বাগানই জলমগ্ন। শ্রমিকদের বাড়ি, বাগানের হাসপাতাল, স্কুল, রাস্তা সবই জলের তলায়। বন্যার জেরে হাজার হাজার চা-শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বাড়িঘর ছেড়ে চা-কারখানা, ম্যানেজারদের বাংলো এবং উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। ছবি: পিটিআই