


গুয়াহাটি: আগামী ৯ এপ্রিল অসমে বিধানসভা নির্বাচন। চর্চার কেন্দ্রে সেই জালুকবাড়ি। ২০০১ সালে এখান থেকে জিতেছিলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তারপর থেকে টানা ২৫ বছর এই কেন্দ্র থেকেই একের পর এক নির্বাচন জিতেছেন তিনি। এবারের নির্বাচনে জালুকবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে হিমন্তের প্রতিপক্ষ হিসাবে দাঁড়িয়েছেন কংগ্রেসের বিদিশা নেওগ। এখন রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— প্রথমবার ভোটে লড়তে আসা কংগ্রেস প্রার্থী বিদিশা নেওগ কি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারবেন?
অসমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র জলুকবাড়ি গত ২৫ বছর ধরে হিমন্তের গড় হিসাবেই পরিচিত। ২০০১ সালের নির্বাচনে বর্ষীয়ান নেতা ভৃগু কুমার ফুকনকে পরাজিত করে তিনি এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। ২০২৩ সাল অবধি এই কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ছিল ২,১০,৬২৪ জন। ভোটকেন্দ্র ছিল ২৪৭টি। তবে ২০২৩ সালের সীমা পুনর্বিন্যাসের (ডিলিমিটেশন) পর পরিসংখ্যান বদলায়। রাজনীতিতে একেবারেই নতুন মুখ বিদিশা। গতবছর হাত শিবিরে যোগ দেন। এবারের নির্বাচনে তাঁকেই বিরোধী জোটের প্রার্থী করার নেপথ্যে কী ভাবনা, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার শুরু করেছেন বিদিশা। তাঁর কথায়, ‘ঘৃণা ও বিভাজনমুক্ত অসম গড়াই আমার লক্ষ্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘অসমের মানুষ জাতি, ধর্ম, সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে ভাই-বোনের মতো শান্তিতে থাকতে চান। কিন্তু বর্তমানে সেই পরিবেশ নেই। আমরা তা ফিরিয়ে আনতে চাই।’ অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রতিপক্ষকে নিয়ে এতটুকু বিচলিত নন। তাঁর দাবি, ‘জালুকবাড়িতে বিরোধীরা কাকে প্রার্থী করেছে সেটাও আমি জানি না। বিজেপি কর্মীরাই আমার হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। গতবার ৭৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিলাম, এবার ৮৫–৯০ শতাংশ আশা করছি।’ কর্মীদের গলাতেও একই আত্মবিশ্বাসের সুর। একদিকে ২৫ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে হিমন্ত বিশ্বশর্মা, অন্যদিকে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখানো রাজনীতিতে নতুন মুখ বিদিশা নেওগ। এখন দেখার, জালুকবাড়ি কি পদ্মফুলেই আস্থা রাখবে, নাকি নতুন কণ্ঠকে সুযোগ দেবে।