নয়াদিল্লি: বিজেপি সবসময় প্রশ্নাতীত আনুগত্য চায়। প্রধানমন্ত্রীও। তাই তিনি কখনো কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হন না। সংসদকে এড়িয়ে চলেন। বিরোধীরা বরাবর এই অভিযোগ করেছে। কিন্তু, যন্তরমন্তরে ককরোচ পার্টির আন্দোলনের পর এখন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখেও প্রশ্ন করার আহ্বান! শনিবার দিল্লি আইআইটির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেই মঞ্চ থেকে মোদি জানিয়েছেন, কোনো ভাবনাচিন্তা ছাড়াই অনেক বিষয়কে মেনে নেওয়া হয়। সেগুলি নিয়ে প্রশ্ন করুন। সেই সঙ্গে পড়ুয়াদের তাঁর পরামর্শ, শুধু প্রশ্ন করে থেমে গেলেই হবে না। উত্তর খোঁজার সাহসও নিজেদের মধ্যে তৈরি করতে হবে। এদিন সরাসরি জেনজি’র নাম উল্লেখ না করলেও যুব সম্প্রদায়ের ভূয়সী প্রশংসা শোনা গিয়েছে মোদির গলায়। জানিয়েছেন, একটি দেশের যুব সম্প্রদায় যত শক্তিশালী হবে, সেই দেশ তত ক্ষমতাবান হয়ে উঠবে।
নিটের প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ইস্তফা দিতে বাধ্য হন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আন্দোলনকারীদেরও শাসক দল নানাভাবে আক্রমণ করেছে। সংসদ অভিযানে প্রশাসনের শক্তি ব্যবহার নিয়েও সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। সার্বিকভাবে ওই পর্বে বারবার ধাক্কা খেয়েছে সরকারের ভাবমূর্তি। তা বুঝতে পেরেছেন স্বয়ং মোদিও। তাই তিনি নিজেই আসরে নেমেছেন। জেন জির কাছে পৌঁছতে নিয়মিত ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করছেন। এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়াল থেকে বেরিয়ে আইআইটির অনুষ্ঠানে সরাসরি যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংযোগ তৈরির চেষ্টা করলেন। বললেন, আপনাদের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আপনাদের দরকার। তাঁর সংযোজন, প্রত্যেক প্রজন্মকেই কিছু না কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। এর সঙ্গেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব তাঁদের উপরেই থাকে। বিকশিত ভারতের উদ্দেশে আমরা যে যাত্রা শুরু করেছি, আগামী ৩০-৪০ বছর তা অনেকটাই নির্ভর করবে আপনাদের উপর। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভেবে দেখুন, সেটি কি দেশের উপকারে আসবে? দেশের চাহিদা পূরণ হবে কি?