রাজীব বর্মন, দেওয়ানহাট: আজ, রবিবার মহালয়ার দিন থেকে শুরু হবে অষ্টাদশভুজা দুর্গার পুজো। স্বপ্নাদেশ পেয়ে কোচবিহার শহর লাগোয়া বাইশগুড়িতে আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্বামী গণেশানন্দ মহারাজ। আশ্রমের নাম বাইশগুড়ি মানবকল্যাণ সঙ্ঘাশ্রম। এখানেই শুরু হচ্ছে আঠারো হাত বিশিষ্ট দুর্গাপুজো। এ বছর এই পুজোর সাতাশ বছর।
বিন্দু বাসিনী পর্বতে দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের সময় নয় দিনে ১৮টি রূপ ধারণ করেছিলেন। সেজন্যই এই প্রতিমায় দেবীর ১৮টি হাত। মানবকল্যাণ সঙ্ঘাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা পঞ্চদশ নং জুনা আখড়ার মহামণ্ডলেশ্বর স্বামী গণেশানন্দ মহারাজ। তিনি স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর কোচবিহারের বাইশগুড়ি গ্রামে এই আশ্রমে অষ্টাদশভুজা দুর্গাপুজোর সূচনা করেন। বৈদিকতন্ত্র মতে এই পুজো হয়ে আসছে। মহাষ্টমীর দিন হয় কুমারী পুজো। ওই দিন হাজার হাজার ভক্তকে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ১৯৯৬ সালে আশ্রম প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর প্রথম পুজো শুরু হয়। কয়েকবছর মাটির তৈরি প্রতিমা দিয়ে পুজো হয়েছে। ২০১১ সালে পাথরের স্থায়ী মূর্তি বসানো হয় মন্দিরে। তারপর থেকে ওই প্রতিমাই পুজো হয়ে আসছে। প্রতিবছর অবশ্য রং করা হয় প্রতিমা। মহালয়ার সকালে দেবীর চক্ষুদান করেন শিল্পী।
শুরুর দিকে সামান্য কয়েকজন বাসিন্দা পুজোর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকতেন। তবে পুজো এখন সর্বজনীন চেহারা নিয়েছে। এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে পুজোর আয়োজনে শামিল হন এলাকার বাসিন্দারা। ভোগের বন্দোবস্ত থেকে পুজোর যাবতীয় আয়োজনের দায়িত্বও সামলান তাঁরা। বাইরে থেকে নাগা সন্ন্যাসীরাও পুজো উপলক্ষ্যে আসেন বাইশগুড়িতে।
এই পুজোর প্রতিষ্ঠাতা স্বামী গণেশানন্দ মহারাজ প্রয়াত হয়েছেন ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে। তারপর থেকে পুজো সামলান সঙ্ঘাশ্রমের মহন্তশ্রী সমর্পিতা জানা। তিনি বলেন, সঙ্ঘাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী গণেশানন্দ মহারাজ দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। ভাগবতপুরাণে বিন্দু বাসিনী পর্বতে দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের সময় নয় দিনে ১৮টি রূপ ধারণ করেছিলেন। সেজন্যই এখানে দেবী অষ্টাদশভুজা রূপে পূজিত হন। মহালয়ার রাতে পুজো শুরু হবে। এখানে দেবী প্রতিমা বিসর্জনের রেওয়াজ নেই। দশমীতে শুধু নবপত্রিকা ও ঘট বিসর্জন দেওয়া হয়।