Bartaman Logo
১৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সীমান্ত পাহারার ফাঁকে একাগ্র অনুশীলন যোগাসনে বিশ্বসেরা অশোকনগরের যুবক

অশোকনগরের বিশ্বজিৎ পাল আন্তর্জাতিক যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপে সোনার পদক জিতেছেন। দেশের সম্মান বাড়াতে পেরে গর্বিত তিনি। বিস্তারিত পড়ুন।

সীমান্ত পাহারার ফাঁকে একাগ্র অনুশীলন যোগাসনে বিশ্বসেরা অশোকনগরের যুবক
  • ১৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সতর্ক প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে থাকেন। দেশকে নিরাপত্তা দেন। অবসরে গড়েন নিজের শরীর। নিখুঁত পেশী, সবল দেহসৌষ্ঠব, আরও দৃঢ় মন গড়ে তোলার সাধনা চালান দিনের পর দিন। সেই সাধনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। এবার পৌঁছে দিল বিশ্বের দরবারে। আন্তর্জাতিক যোগাসন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সোনার পদক জিতে নিলেন বিএসএফ জওয়ান বিশ্বজিৎ পাল। 

Advertisement

বিশ্বজিৎ অশোকনগরে থাকেন। ভারতের মাথায় গৌরবের মুকুট পরিয়েছে ছেলে, এই সাফল্যে গর্বে বুক ফুলেছে পরিবারের। পাশাপাশি গোটা অশোকনগর পাড়ার ছেলের সাফল্যে আনন্দিত। গর্বিত দেশও। অশোকনগর পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুভাষপল্লিতে থাকেন বিশ্বজিৎ পাল। ছোটবেলা থেকে খেলা ও শরীরচর্চার প্রতি টান। যুবক বয়সে দেশসেবার স্বপ্ন নিয়ে যোগ দেন বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সে (বিএসএফ)। চাকরি কঠিন। কঠোর পাহারার গুরুদায়িত্ব কাঁধে। তবুও লক্ষ্যচ্যুত হননি। শত কষ্টেও শরীরচর্চা ছাড়েননি। সীমান্ত পাহারার কঠোর দায়িত্ব সামলানোর মাঝে যোগাভ্যাস থেকে সরেননি। ডিউটির ক্লান্তি ভুলে নিয়মিত অনুশীলন করে গিয়েছেন। 
সেই নিষ্ঠা আর অধ্যাবসায়ের ফলই পেলেন বিশ্বজিৎবাবু। টানা অনুশীলনে যে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছিলেন তা তাঁকে এনে দিল বিশ্বসেরার সম্মান। আন্তর্জাতিক যোগদিবস উপলক্ষ্যে গুজরাতের আহমেদাবাদে আয়োজিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপের। বিশ্বের ৭৮ দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নিয়েছিলেন। ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন অশোকনগরের ছেলেটি। তাঁর ইভেন্ট ছিল পুরুষদের হ্যান্ড ব্যালান্স বিভাগ। তাতে বিশ্বের মাত্র ১১টি দেশ ফাইনাল রাউন্ডে জায়গা পেয়েছিল। বিশ্বের একের পর এক অভিজ্ঞ ও শক্তিশালী প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে যান বিশ্বজিৎ। শেষ লড়াইয়ে তাঁর সামনে ছিলেন জাপানের প্রতিযোগী। রুদ্ধশ্বাস সেই ফাইনালে নিখুঁত পারফরম্যান্সের জোরে জাপানের প্রতিযোগীকে পরাজিত করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের খেতাব জিতে নেন বিশ্বজিৎ। বিচারকদের সর্বোচ্চ প্রশংসা কুড়িয়ে শেষপর্যন্ত তাঁর হাতেই ওঠে সোনার পদক। বিশ্বজিৎবাবু বলেন, ‘হ্যান্ড ব্যালান্স ইভেন্টে খেলেছিলাম। সীমান্তে দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করি। খেলার মাধ্যমে দেশের নাম বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ