নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: গ্রামীণ অর্থনীতির ভালোমন্দের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত রাজ্য সরকারের সমবায় দপ্তর। চাষের মরশুমে স্বল্প সুদে কৃষিঋণ থেকে শুরু করে সার-বীজ সংগ্রহ, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম, ছোটো ব্যবসা শুরু করার মূলধন—সব ক্ষেত্রেই সমবায় এক ভরসার নাম। আর সেই দপ্তরের একাধিক প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। তাই নতুন সরকার আসতেই এ বিষয়ে কড়া অবস্থান নিলেন রাজ্যের সমবায়মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। তিনি বলেন, ‘সমবায় দপ্তর কেবল প্রশাসনিক ফাইল চালাচালির জায়গা নয়। গ্রামের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি অর্থনৈতিক ভিত্তি। এই দপ্তরের প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে গ্রামের কৃষক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে। তাই কোনো প্রকল্প ফেলে রাখা মানে মানুষকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা।’
জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্প এবং আর্থিক সহায়তা সংক্রান্ত ফাইল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্তরে আটকে রয়েছে। কোনো ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় অনুমোদন মেলেনি। কোথাও আবার প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়নি। ফলে বহু সমবায় সংস্থা আর্থিক সংকটে পড়েছে। অনেক জায়গায় ঋণের টাকা উদ্ধারের কাজ থমকে। এসেবর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। সমবায় দপ্তরের সবচেয়ে বড়ো শক্তি হল সরাসরি মানুষের সঙ্গে সংযোগ। কৃষি সমবায় সমিতির মাধ্যমে চাষিরা সহজ শর্তে ঋণ পান। ফলে মহাজনের কাছে হাত পেতে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয় না। অনেক সময় এই ঋণই একজন কৃষকের বীজ কেনা, চাষের খরচ চালানো এবং ফসল উৎপাদনের মূল ভরসা হয়ে ওঠে। প্রয়োজনীয় সার ও বীজ সরবরাহ, সরকারি ভরতুকি পৌঁছে দেওয়া এবং ফসল বিক্রির জন্য বাজারের সঙ্গে সংযোগ তৈরির কাজও সমবায়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে। মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সমবায় দপ্তরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গোষ্ঠীর মাধ্যমে ঋণ দেওয়া, ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করার সুযোগ তৈরি, হস্তশিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ বা স্থানীয় উৎপাদনকে বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ এই দপ্তরের মাধ্যমেই হয়। ফলে গ্রামে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয় ও পরিবারের আয় বাড়ে। এছাড়াও মৎস্যজীবী সমবায়, দুগ্ধ সমবায়, তাঁত ও হস্তশিল্প সমবায়, হাউজিং কো-অপারেটিভ এবং শ্রমজীবী সমবায় সংস্থাগুলিও বহু মানুষের জীবিকার সঙ্গে জড়িত। তাই আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত সমবায় বোর্ডের আর্থিক অবস্থা, ঋণ সংক্রান্ত পরিস্থিতি এবং চলমান প্রকল্পের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলেছেন মন্ত্রী।
অশোকবাবু বলেন, ‘কেন্দ্রের একাধিক প্রকল্প বাংলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে না। সেগুলি দ্রুত চালু করা হবে। বাংলার মানুষকে বঞ্চিত করা যাবে না। তাই আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছি কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি পাঠানোর জন্য। সমবায় দপ্তরের বিভিন্ন বোর্ড ও ঋণের দিকগুলি নিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।’