নয়াদিল্লি: আর মাত্র ৩৩ বছর। অর্থাৎ হাতে সময় মেরেকেটে এক প্রজন্মের। ‘বার্ধক্যের গ্রাসে’ পড়তে চলেছে ভারতের জনসংখ্যা। অর্থাৎ জনসংখ্যায় বয়স্কদের অনুপাত বাড়বে। এই মুহূর্তে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলি ঠিক এই সমস্যার মুখে পড়েছে। ঘটনাচক্রে, উচ্চ উপার্জনের দেশগুলির তুলনায় বর্তমানে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি মাত্র ১৮ শতাংশ। অর্থাৎ, ‘বুড়ো’ হওয়ার আগেই ‘ধনী’ হতে হলে ভারতের হাতে আর বিশেষ সময় নেই! এই সতর্কতা দেওয়া হয়েছে ম্যাককিনসে-র জনসংখ্যা বিষয়ক একটি রিপোর্টে।
Advertisement
রিপোর্টে বলা হয়েছে, বর্তমানে ভারতের প্রজনন হার মহিলা পিছু ১.৯৮টি শিশু। এটি রিপ্লেসমেন্ট রেট বা পরিবর্ত-হার (২.১ শতাংশ) এর থেকে কম। সেই সূত্রেই রাষ্ট্রসঙ্ঘের অনুমান, ২০৬১ সালে ভারতের জনসংখ্যা শিখরে (১৭০ কোটি) পৌঁছবে। তারপর থেকে জনসংখ্যা কমতে শুরু করবে। ম্যাককিনসে রিপোর্টে দাবি, জনসংখ্যায় এই পরিবর্তনের ফলে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার শ্লথ হবে। এর কারণ, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়বে। বর্তমানে দেশে ১০ জন কর্মক্ষম ব্যক্তি থাকলে একজন করে প্রবীণ নাগরিক রয়েছেন। ২০৫০ সালে বয়স্ক নাগরিক পিছু কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে হবে ৪.৬। ২১০০ সালে তা আরও কমে হবে মাত্র ১.৯। এই মুহূর্তে জাপানে প্রায় একইরকম পরিস্থিতি। এর ফলে সরকার ও পরিবারের উপর আর্থিক চাপ বাড়বে। রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ ভারতের এই আর্থিক চাপ কমাতে হলে মহিলাদের আরও বেশি করে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে হবে। বর্তমানে ভারতের ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সি মহিলাদের মাত্র ২৯ শতাংশ কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত। অন্য ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির দেশগুলিতে এই হার ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ।



