নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: মঙ্গলবার আসানসোল পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে আসন্ন অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করলেন মেয়র বিধান উপাধ্যায়। ৩৩৭ কোটি ১২ লক্ষ টাকার বাজেট পেশ করেছেন তিনি। বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণে। কিন্তু পুরসভা সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে পানীয় জলের সংকট মেটানোর উপর। পাইপ লাইন সংযোগ, টিউবয়েল মেরামতি বাবদ গত বছর ১৬ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছিল। এবার সেই খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৫ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ ব্যয় বরাদ্দ বেড়েছে পাঁচগুণের বেশি। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আসানসোল পুরসভা চারটি জায়গায় মা ক্যান্টিন চালাচ্ছে। বাজেটে আরও চারটি জায়াগায় মা ক্যান্টিন চালু করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। আসানসোল জেলা হাসপাতালেও মা ক্যান্টিন চালু করতে চলেছে পুরসভা।
শুধু ব্যয় বরাদ্দ বাড়ানোই নয় আয় বাড়াতেও তৎপর হয়েছে পুরসভা। পুরসভার পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসন্ন অর্থবর্ষে আয় হবে ৩৩৯ কোটি ৫৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। মেয়রের দাবি, এবারের বাজেটে উদ্বৃত্ত বাজেট। ব্যয় থেকে আয় ২ কোটি ৪২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা বেশি ধরা হয়েছে। পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, গত বছর সম্পত্তিকর বাবদ ২১ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা আদায় হয়েছিল। পুরকর আদায়ের গতি ও পরিমাণ বৃদ্ধি করতে বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ী পুরকর আদায়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সব পদক্ষেপের জেরে আসন্ন অর্থবর্ষে ২৫ কোটি ৭ লক্ষ টাকা আয় হবে বলে পুরসভা বাজেটে আশা প্রকাশ করেছে। ট্রেড লাইসেন্স ও বাড়ির প্ল্যান বাবদ ১৪ কোটি টাকা আয়ের আশা দেখছে পুর কর্তৃপক্ষ। মেয়র বিধান উপাধ্যায় বলেন, আমাদের পাখির চোখ এখন শহরবাসীর জল সংকট মেটানো। আমরুত প্রকল্পে ৪২৫ কোটি টাকার কাজ চলছে। তা ছাড়াও পাইপ লাইন সংযোগ ও টিউবওয়েল সংস্কার বাবদ প্রায় ১০০ কোটি টাকার বাজেটে ধরা হয়েছে।
এদিন সকালে আসানসোল পুরসভার চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে বোর্ড মিটিং শুরু হয়। সেখানেই মেয়র ইন কাউন্সিলারদের উপস্থিতিতে বাজেট পেশ করেন। তিনি জানিয়েছেন, গত বছর ৫ হাজার ৯৬০ জন উপভোক্তা ১৫৩ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকা পেয়েছেন গৃহ নির্মাণের জন্য। ১০টির বেশি কমিউনিটি সেন্টার ও ২৫টি জাহের থান তৈরি করা হয়েছে। এরপরই মা ক্যান্টিন প্রসঙ্গ আসে। দাবি করা হয়েছে, স্বনির্ভর দলের মেয়েরা সফল ভাবে মা ক্যান্টিন পরিচালনা করছেন। পাঁচটি মা ক্যান্টিনে গড়ে ১২০০ দুঃস্থ মানুষ খাবার খান। এই সাফল্য দেখে পুরসভা আসানসোল জেলা হাসপাতাল এবং পুরসভার ২০,২১ ও ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে মা ক্যান্টিন চালু করার কথা বাজেট প্রস্তাবে জানিয়েছে।
যদিও পুরকর আদায়ে কতটা সফল হবে তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন। জানা যায়, জামুড়িয়া শিল্পতালুকে বহু বড় কারখানা পুরসভার প্ল্যান পাস না করিয়েই নির্মাণ করেছে। এমনকী বহু সরকারি জমি দখল করেও নির্মাণ হয়ে গিয়েছে। পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার, অর্থ বিভাগের আধিকারিকরা হিসেব করে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ফাইন ধার্য করে কারখানাগুলির বিরুদ্ধে। বছর পার হলেও সেই ফাইন আদায় হয়নি। এনিয়ে মেয়র বলেন, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত আমরা পদক্ষেপ করব। -নিজস্ব চিত্র