


সংবাদদাতা, বহরমপুর: ভোটের দামামা বাজতেই দেওয়াল লিখন শিল্পীদের কার্যত নাওয়া খাওয়া শিকেয় উঠেছে। কাকভোরে রঙ, তুলি সরঞ্জাম, টিফিন নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ছেন। দিনভর কাজে ব্যস্ত থেকে সন্ধ্যার পর ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরছেন। শিল্পীদের দাবি, প্রতিদিন অন্তত তাঁরা ৪০-৪৫টি দেওয়াল লিখছেন। যে দল ডাকছে সেই দলের হয়েই কাজ করছেন। একটানা পনেরো থেকে কুড়ি দিন একই গতিতে দেওয়াল লিখন চলবে। অধিকাংশ শিল্পীদের বক্তব্য, এবার ঘাসফুল প্রতীকের প্রার্থীদের দেওয়াল লিখন সব থেকে বেশি হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে দেওয়াল লিখনের অনুরোধ করে অনবরত ফোন আসছে। একহাতে তুলি ধরে অন্য হাতে মোবাইল ফোনও ধরতে হচ্ছে।
বাঙালিদের কাছে যেকোনো নির্বাচনকেই উৎসবের আঙ্গিকে দেখা হয়। আর এই ভোট উৎসবই অনেকের কর্ম সংস্থান, বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে ওঠে। তারমধ্যে অন্যতম হল দেওয়াল লিখন। ভোট প্রচারের প্রথম পর্ব এই দেওয়াল লিখন দিয়েই শুরু হয়। শিল্পীদের তুলির টানে কোথাও রাজনৈতিক দলগুলির চিন্তাভাবনা ফুটে ওঠে। তবে বর্তমানে দেওয়াল জুড়ে রাজ্যের শাসকদলের জনমুখি প্রকল্পগুলি বেশি তুলে ধরা হচ্ছে। কোথাও আবার দেওয়াল জুড়ে ছড়া, কার্টুনের ছবি ফুটিয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়। ভোটের হাওয়া পালে টানতে শিল্পীদের তুলির টানই প্রথম কথা বলে। ফলে ভোটের বাদ্যি বাজতেই এই দেওয়াল লিখন শিল্পীদের ডাক হুহু করে বাড়তে শুরু করে।
শিল্পীদের বক্তব্য, প্রার্থী ঘোষনার আগে প্রতীক চিহ্ন দিয়ে দেওয়াল লেখা হয়। তারজন্য শিল্পীরা দেওয়াল প্রতি ৮০-১০০ টাকা নেন। পরে নাম প্রতীক দিয়ে দেওয়াল লিখনের জন্য ১৮০-২০০ টাকা শিল্পীদের দিতে হয়। তবে চুনকাম করে দেওয়াল দখল এবং দেওয়ালের মালিকের অনুমতি নেওয়ার দায়িত্ব প্রার্থী বা সংশ্লিষ্ট দলের। রঙ, তুলির খরচ শিল্পীর নিজের। বহরমপুর কাশিমবাজার এলাকার দেওয়াল লিখন শিল্পী রমেশ সরকার বলেন, সারাবছর স্কুল, কলেজের কাজ করি। তবে নির্বাচন এলে সব কাজ বন্ধ রেখে প্রার্থীদের প্রচারে দেওয়াল লিখনে চরম ব্যস্ত হয়ে পড়ি। আগামী পনেরো দিন কাজের চাপে নাওয়া খাওয়া ভুলে যেতে হবে। শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভোট এলেই আমাদের ডাক পড়ে। আমাদেরও এই সুযোগে বাড়তি কিছু আয় হয়। রোজ চল্লিশটি দেওয়াল লিখছি। রোজ সকালে বাড়িতে রঙ গুলে নিয়েই দলবল নিয়ে বেরোচ্ছেন মহাদেব ঘোষ। সহশিল্পীদের এলাকা ভাগ করে দিয়ে নিজে একটি এলাকায় দেওয়াল লিখছেন। মহাদেববাবু বলেন, প্রথম দফায় শুধু প্রতীক চিহ্ন এঁকেছি। এখন সেই দেওয়ালগুলি নাম দিয়ে সম্পূর্ণ করছি। কার্টুন বা অভিনব দেওয়াল লিখনে পারিশ্রমিক বেশি লাগে। -নিজস্ব চিত্র