নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বিপুল ভক্ত সমাগম, উৎসাহের বিরাট বহর, আর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে জগৎপতি জগন্নাথের রথযাত্রা সম্পন্ন হল বৃহস্পতিবার। সঙ্গে ছিল ঐতিহ্য আর রীতি-রেওয়াজের সমাবেশ। হুগলির মাহেশ ও গুপ্তিপাড়া তো বটেই, রথকে ঘিরে উৎসাহ ছিল চন্দননগরেও। মেঘলা আকাশ, কখনও কখনও বৃষ্টির ছাট, ভ্যাপসা গরম— ভক্ত সমাগমে বাঁধ দিতে পারেনি কিছুই। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মাহেশ ও গুপ্তিপাড়ার রথযাত্রা ঘিরে ছিল বেনজির উন্মাদনা। মাহেশে ৬৩০ বছরের রথের রশিতে টান পড়েছে বিকালে। আরেক শতাব্দী প্রাচীন গুপ্তিপাড়ার রথ গুণ্ডিচা বাড়ির দিকে গড়াতে শুরু করেছিল তারও কিছু আগে। দুপুরেই নেমে পড়েছিল চন্দননগরের প্রাচীন রথ। শেষপর্যন্ত লাখো জনতার ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনি সহ জগৎপতি সন্ধ্যার পর পৌঁছে গিয়েছেন মাসির বাড়িতে।
চন্দননগর কমিশনারেট ও গ্রামীণ পুলিশ জানিয়েছে, গুপ্তিপাড়া ও শ্রীরামপুরের মাহেশের রথযাত্রায় বিপুল ভক্ত সমাগম হয়েছিল। কিন্তু পূর্ব পরিকল্পনা থাকায় সবটা সুষ্ঠুভাবে মিটে গিয়েছে। মাহেশের জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েত পিয়াল অধিকারী বলেন, জ্বর সেরে গেলেই জগৎপতি মাসির বাড়ি যেতে চান। সেই উৎসবই রথযাত্রা। তবে সেখানে জগন্নাথের নিজস্ব লীলাও আছে। এরপর উলটোরথ পালন করা হবে। গুপ্তিপাড়ার বৃন্দাবনজিউ মন্দিরের তরফে জানানো হয়েছে, বিপুল ভক্ত সমাগম ও বিরাট আয়োজনে শতাব্দীপ্রাচীন রথযাত্রা সম্পন্ন হয়েছে। এদিনই গুপ্তিপাড়ার ঐতিহ্যবাহী ভাণ্ডারলুট উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভিড় জমতে শুরু করে মাহেশের স্নানপিঁড়ি মাঠে। মাহেশের রথ স্থান পেয়েছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসে। জগন্নাথ মন্দিরে এসেছে স্বয়ং পরমহংসদেব। বিদেশে তৈরি লোহার রথ, সেটিকে ঘিরে থাকা জগৎপ্রভুর ৯৬ জোড়া চোখ, গুটকে ও বালা সন্দেশের মতো ঐতিহ্য মাহেশের রথকে ঘিরে আছে। তাই অন্য জেলা থেকেও মানুষ এসেছেন দলে দলে। এসেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, শ্রীরামপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য সহ বিশিষ্টরা। পুজো-অর্চনার পর বিকালে রথ স্নানপিঁড়ি ছেড়ে মাসির বাড়ির দিকে রওনা হয়। স্নানপিঁড়ি মাঠ থেকে জিটি রোড ধরে মাসির বাড়ি পর্যন্ত বহু মানুষ পথের দু’ধারে ভিড় জমিয়েছিলেন। কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল পুলিশ। ড্রোন দিয়ে আকাশপথে নজরদারি, ওয়াচ টাওয়ার, উর্দিধারী থেকে সাদা পোশাকের পুলিশ বিপুল সংখ্যায় মোতায়েন করা হয়েছিল। গুপ্তিপাড়ায় বৃন্দাবনজিউ মন্দিরের রথযাত্রাতেও ছিল নিরাপত্তা। বিশেষ করে জলপথে ছিল কড়া নজরদারি। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। গুপ্তিপাড়ার রথযাত্রারও নিজস্ব ঐতিহ্য আছে। ২৮৭ বর্ষে পড়েছে গুপ্তিপাড়ার রথ। হুগলির গঙ্গাপাড়ে ওই রথের অন্যতম আকর্ষণ মেলা। এদিন মেলার মাঠে জিলিপ, পাঁপড় ভাজার গন্ধ ভক্তদের মাতিয়ে রেখেছিল।