Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রতিজ্ঞা পূরণ হতেই কেউ শুরু করলেন বাড়ি মেরামতি, কেউ কাটলেন চুল-দাড়ি

গোটা ফলতায় যেদিন ‘পদ্মফুল’ ফুটবে, সেদিন তিনি বাড়ির ভেঙে দেওয়া গেট, ঘর, ঠাকুরঘর মেরামত করবেন।

প্রতিজ্ঞা পূরণ হতেই কেউ শুরু করলেন  বাড়ি মেরামতি, কেউ কাটলেন চুল-দাড়ি
  • ২৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

 বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, ফলতা: গোটা ফলতায় যেদিন ‘পদ্মফুল’ ফুটবে, সেদিন তিনি বাড়ির ভেঙে দেওয়া গেট, ঘর, ঠাকুরঘর মেরামত করবেন। প্রায় সাড়ে আট বছর আগে এমনই প্রতিজ্ঞা নিয়েছিলেন আইনজীবী পার্শ্ব ঘোষ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। রবিবার ছিল সেই দিন! ফলতাজুড়ে বিজেপির জয়জয়কার হতেই প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করলেন পার্শ্ববাবুরা। বাড়ির ভাঙা গেট পুনরায় তৈরির কাজ শুরু হল। জয়ের আনন্দে চলল মিষ্টিমুখ। 

Advertisement

ফলতা থানা এবং আইসি’র আবাসনের গা ঘেঁষে থাকা পার্শ্ববাবুদের বাড়ি এলাকায় ‘উকিলবাড়ি’ নামে পরিচিত। সাড়ে আট বছর আগে সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল? তখন এই এলাকায় বিজেপির মণ্ডল সভাপতি ছিলেন সুভাষ মারিক। তিনি সম্পর্কে পার্শ্ববাবুর নাতি। দলের যুব মোর্চার সভায় তিনি ফলতা থেকে প্রচুর লোকজন নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই আক্রোশেই জাহাঙ্গির বাহিনীর রোষানলে পড়তে হয় গোটা পরিবারকে। অভিযোগ, ২০১৮ সালে থানার আইসির সামনেই ৩০ জনের একটি দল ‘উকিলবাড়ি’-তে ঢুকে বোমা মারে। লোহার রড, শাবল দিয়ে গেট ও ঠাকুরঘরের জানালার কাচ ভাঙে। সেদিনের ভয়াবহ স্মৃতি রোমন্থন করছিলেন পার্শ্ববাবু। তিনি বলেন, ‘অনেকদিন পর মুক্তির নিশ্বাস নিতে পারছি। আর ভয় নেই। প্রাণ খুলে কথা বলতে পারব।’ একইরকম স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস ধরা পড়েছে ফলতার নানা প্রান্তে। বেলেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা নিশির বিশ্বাসের স্ত্রী  মীনা বিশ্বাস বলছিলেন, ‘এতদিন একটা দমবন্ধ পরিস্থিতি ছিল ফলতায়। অবশেষে মুক্তি পেলাম।’ ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের ফল বেরনোর পর তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁদের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। মীনাদেবী বলেন, ‘আমাদের ওষুধের দোকান ভেঙে কয়েক লক্ষ টাকার ওষুধ ও নগদ লুট করে নিয়ে যায়। পরিবার নিয়ে ৬ মাস ঘরছাড়া ছিলাম। সেদিন মা কালীর মন্দিরে শপথ নিয়েছিলাম। বলেছিলাম, ফলতাতে যেদিন পদ্মফুল ফুটবে, সেদিন পুজো দিয়ে, আলপনা এঁকে উৎসর্গ করব মা-কে।’ কিন্তু তাঁদের উপরে কেন আক্রমণ করেছিল তৃণমূল? মীনাদেবী জানান, সে বছর বিধানসভা ভোটে বিজেপি প্রার্থী বিধান পাড়ুইয়ের সঙ্গে মহিলা মোর্চার মণ্ডল সভানেত্রী হিসাবে প্রচার করেছিলেন তিনি। তারই খেসারত দিতে হয় এভাবে। রবিবার বিকালে তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, মীনাদেবী তাঁর শপথ পূর্ণ করছেন। সকালে পুজো দিয়েছেন। তারপর ছেলে সন্দীপনকে নিয়ে মন্দিরের চাতালে বিশাল আলপনা আঁকছেন। সঙ্গে লেখা, ‘আজ রাহুমুক্ত হল ফলতা, স্বাধীন হলাম আমরা।’ এই গ্রামেরই বিশ্বজিৎ খাঁড়াকে ব্যাপক মারধর করা হয়েছিল। ভাঙচুর হয় বাড়িও। বিজেপি করার জন্য ২০২১ সাল থেকে ঘরছাড়া ছিলেন। বিশ্বজিৎবাবু শপথ নিয়েছিলেন, যতদিন বিজেপি ফলতায় না জিতছে, ততদিন তিনি চুল-দাড়ি কাটবেন না। ররিবার তিনি গঙ্গাস্নান করে পুজো দিয়ে চুল কেটে ফেলেন। মানসী প্রামাণিক তাঁর পরিবার নিয়ে ঘরছাড়া ছিলেন দীর্ঘদিন। তিনি এদিন আনন্দে মিষ্টি বিলি করেন। এরকমই অজস্র টুকরো ঘটনার সাক্ষী থাকল রবিবারের ‘গেরুয়া’ ফলতা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ