নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও কলকাতা: যুবভারতী কাণ্ডে অরূপ বিশ্বাস পুলিশের তলব এড়িয়ে বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন। ২২ জুলাই ছিল শুনানির দিন। কিন্তু তাঁর আইনজীবীরা আদালতে অনুরোধ করে দিন এগিয়ে আনেন মঙ্গলবার। কিন্তু এই মামলাতেই শেষ মুহূর্তে সুর বদল! মঙ্গলবার বারাসত জেলা আদালতে করা আগাম জামিনের আবেদন ‘নট প্রেস’ করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের আইনজীবীরা। ফলে, বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন প্রত্যাহার করলেন অরূপ বিশ্বাস। আর এই ঘটনাকে ঘিরে আদালত চত্বরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। তবে হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী আবেদন করতে পারেন বলে অরূপ-ঘনিষ্ঠ আইনজীবীদের দাবি।
‘মেসি ইভেন্ট’ সংক্রান্ত প্রতারণা মামলায় শতদ্রু দত্তের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৭ মে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। টিকিট কালোবাজারি, বেআইনিভাবে অর্থ সংগ্রহ, ভয় দেখানো এবং প্রতারণাসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে তলবও করা হয়। যদিও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পুলিশের কাছে ১০ দিনের সময় চেয়ে নেন তিনি। এর মধ্যেই সম্ভাব্য গ্রেপ্তারি এড়াতে বারাসত জেলা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আগাম জামিনের আবেদন করেন অরূপবাবু। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন প্রথমে নির্ধারিত ছিল ২২ জুলাই। তবে, আবেদনকারী পক্ষের উদ্যোগেই সেই তারিখ এগিয়ে এনে মঙ্গলবার মামলাটি তোলা হয় আদালতে।
আর সেখানেই নাটকীয় মোড়! শুনানি শুরু হওয়ার আগেই অরূপের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, আপাতত তাঁরা আবেদনটি আর এগিয়ে আনতে চান না। এরপরই আবেদনটি ‘নট প্রেস’ হিসাবে নথিভুক্ত হয়। এনিয়ে অরূপ বিশ্বাসের আইনজনীবী সৌভিক বসু ঠাকুর বলেন, অরূপ বিশ্বাস একটি রিট ফাইল করেছেন হাইকোর্টে। আর এখনো সেটা পেন্ডিং আছে। তার জন্য আপাতত বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদনটি আমরা নট প্রেস করেছি। পরবর্তী ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত পরে বলব।
ফলে, বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে, শুনানির দিন এগিয়ে এনেও শেষপর্যন্ত আবেদন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হল, তা নিয়েই এখন চর্চা। তবে অরূপ কোথায় লুকিয়ে রয়েছেন তার হদিশ কিন্তু এখনো তদন্তকারীরা পাননি। তাঁর সবকটি মোবাইল বন্ধ। সেই কারণে প্রাক্তন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এবং পরিচিত যাঁরা রয়েছেন তাঁদের উপর নজরদারি শুরু হয়েছে। সেখান থেকে জানার চেষ্টা চলছে কোনোভাবে তিনি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কি না। তবে মমতা-ঘনিষ্ঠ এই নেতা যে কলকাতা এবং লাগোয়া জেলাতেই আশ্রয় নিয়েছেন সে বিষয়ে তদন্তকারীরা নিশ্চিত। এদিকে তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের সুরুচি সংঘের ক্লাবে মঙ্গলবার যায় নিউ আলিপুর থানা। তাদের সঙ্গে ছিলেন স্বরূপ। তাঁর সামনেই ক্লাবের তালা ভাঙা হয়। তবে সেখান থেকে কিছু পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা মনে করছেন, গ্রেপ্তারের আগে যে সময় তিনি পেয়েছেন তাতেই বিভিন্ন মালপত্র সরিয়ে ফেলেছেন। সেগুলি কোথায় আছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।