


বিশেষ সংবাদদাতা, ইটানগর: তায়কোন্ডোতে ইতিহাস লিখলেন অরুণাচল প্রদেশের রূপা বায়োর। প্রথম ভারতীয় হিসেবে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এলেন ২৪ বছর বয়সি। তাঁর পয়েন্ট ১০০.৮৫। এশিয়াতে তাঁর র্যাঙ্কিং সবার উপরে। এর আগে কোনও তায়কোন্ডোতে ভারতের কেউ এশিয়ার এক নম্বরে ওঠেননি।
গলি থেকে রাজপথের মতোই উত্থান রূপার। অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার দাপোরিজো সার্কেলের ছোট্ট গ্রাম সিপ্পিতে তাঁর বাড়ি। অল্প বয়সে বাবাকে হারিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় চরম আর্থিক অনটনে পড়ে পরিবার। চার সন্তানের প্রতিপালনের জন্য ধানখেতে কাজ করতে হয় মা’কে। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত ছোট্ট রূপাও। সেই কষ্ট-যন্ত্রণা থেকেই জন্ম নেয় জেদ। দারিদ্র্যের অসহায়তা কাটাতে তায়কোন্ডোই হয়ে ওঠে রূপার হাতিয়ার। প্রবল পরিশ্রম মানসিক ও শারীরিকভাবে করে তোলে শক্তিশালী।
ক্যারাটে মাস্টার কাকাই তাঁর গুরু। মার্শাল আর্টের কলাকৌশল তিনিই ২০১৫ সালে শেখান ভাইঝিকে। ২০২১ সালে মুম্বইয়ে ইন্দো-কোরিয়ান তায়কোন্ডো অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ শুরু করেন রূপা। সেখানে কোচ ছিলেন অভিষেক দুবে। ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়ায় আসে প্রথম আন্তর্জাতিক পদক। ভিসাজনিত সমস্যায় এশিয়ান গেমসে যদিও যোগ্যতা অর্জনের পরও অংশ নিতে পারেননি। ২০২৪ সালে ভিয়েতনামে এশিয়ান তায়কোন্ডো পুমসে চ্যাম্পিয়নশিপে আসে ব্রোঞ্জ পদক। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন আন্তর্জাতিক তায়কোন্ডো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং বিশ্ব তায়কোন্ডো প্রেসিডেন্টস কাপে জেতেন ব্রোঞ্জ। এগুলোর সুবাদেই বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ছয় নম্বরে উত্থান তাঁর। যা অনেকের কাছেই তাঁকে পরিণত করছে রোল মডেলে।