সংবাদদাতা, কাটোয়া : কাটোয়া শহরে শিল্পীর হাতে তৈরি আর্টের সাজ এবার পাড়ি দিচ্ছে সুদূর মেক্সিকো৷ এমনকি আগে সুইডেন, লণ্ডন, মধ্যপ্রদেশ, কেরল, বিহারে পাড়ি দিয়েছে প্রতিমার নানা সাজ৷ শিল্পীর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি এই সাজে মেক্সিকোর প্রবাসী বাঙালীর ঘরের দুর্গা প্রতিমাকে সাজানো হবে৷
চেষ্টা থাকলে বাংলার হস্তশিল্প যে আন্তর্জাতিক বাজারে পাল্লা দিতে পারে তা প্রমাণ করে দিয়েছেন কাটোয়া শহরের সুমিতবরণ সাহা। ছ’বছর ধরে তিনি সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় আর্টের সাজ তৈরি শিখেছেন৷ তারপর অনলাইনের মাধ্যমে তিনি তাঁর কাজ একের পর এক ভিনরাজ্য এমনকি, বিদেশেও পাঠিয়েছেন৷ কার্যত তিনি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মন জয় করে দেখিয়েছেন৷ শিল্পীর কারুকাজে শোলার সাজের পরিবর্তে এখন নানা প্লাস্টিকের সাজ জায়গা করে নিচ্ছে৷ কিন্তু এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও শিল্পীদের কাছে জ্বলন্ত উদাহরণ কাটোয়া শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের তাঁতিপাড়ার সুমিতবরণ সাহা৷ মেস্কিকোর প্রবাসী এক বাঙালী বাড়িতে তিন ফুটের দুর্গা প্রতিমার পুজো হবে৷ ওই ব্যক্তি সামাজিক মাধ্যমে কাটোয়া শহরের সুমিতবরণের হাতের কাজ দেখে মুগ্ধ হন৷ এরপরেই তিনি শিল্পীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন৷ মা দুর্গার মুকুট, আঁচল, হাতের বালা এসব বানিয়ে স্পিড পোস্টের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন৷ সুমিতবরণ সাহার কথায়, আমার প্রথম কাজ নয়ডায় গিয়েছিল৷ তারপর একের পর এক ভিন রাজ্য থেকে বরাত আসে৷ আমি লকডাউনে প্রথম কাজ শুরু করি৷ তারপর সামাজিক মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি৷
সুমিত পেশায় তবলা বাদক৷ পাশাপাশি তিনি বাড়িতে প্রতিমার সাজও তৈরি করেন৷ ২০২২ সালে তাঁর হাতের তৈরি সাজ পাড়ি দেয় মরিশাসে। শিল্পীরা বলছেন, ঠিকমতো কাজ করতে পারলে বিদেশে এর চাহিদা যে রয়েছে তা বরাবরই প্রমাণিত হয়েছে৷
পুঁতি, পিচবোর্ড, জড়ি এসব দিয়েই সাজ তৈরি হয়েছে৷ পিচবোর্ডের উপর আঠা দিয়ে জড়ি, চুমকি বসিয়ে প্রতিমার সাজ তৈরি হয়েছে৷ কাটোয়া শহরের কৃতী শিল্পী সুমিতবরণের এমন কাজ এবার অনেকেরই চোখ খুলে দেবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের৷