সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: রাত পোহালেই কালীপুজো। আলোর মালায় সেজে উঠেছে শহর থেকে গ্রাম। পাশাপাশি দোকানে দোকানে আতসবাজি কেনার ভিড়। অথচ যাঁরা আতসবাজি তৈরি করেন, তাঁরা থাকেন পাদপ্রদীপের নীচে। লাভের টাকা নিজেরাই চোখে দেখতে পান না। তাঁদের কথাবার্তায় সেই হতাশা ঝরে পড়েছে। তাঁদের বক্তব্য, পর পর নিম্নচাপের জেরে আকাশ সারাদিন মেঘাচ্ছন্ন থাকছে। তার উপর মাঝেমাঝে বৃষ্টিও হচ্ছে। ফলে বাজি তৈরি করলেও শুকাচ্ছে না। পাশাপাশি বাজির বিভিন্ন উপাদানের দাম বৃদ্ধিও লাভ না হওয়ার একটা কারণ। ফলে বাজি তৈরি করলেও আগের মত লাভ হচ্ছে না।
বাগনানের ভুঁইড়া গ্রাম। এই গ্রামেই রয়েছে বাজি কারখানা। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা এই গ্রামে বাজি সাম্রাজ্যের ‘বাজিগর’। কালীপুজোর সময় বাগনান ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর মানুষ এখানে আসেন বাজি কিনতে। নানা ধরনের বাজি। বাজির জোগান দিতে কারখানার কর্মীদের রীতিমত হিমশিম খেতে হত আগে। সেসব অভিজ্ঞতা এখন অতীত। এবছর সেভাবে ভিড় হয়নি এখানে। নেই ক্রেতাদের হুড়োহুড়ি। শুক্রবার বাজি কারখানায় গিয়ে দেখা গেল, হাতেগোনা কয়েকজন কর্মী কাজ করছেন। বাইরে বাজি বিক্রি হলেও আগের মত ভিড় নেই। কথা প্রসঙ্গে কারখানার মালিক সলিলকুমার সাউ বলেন, এই কারখানার বয়স ৪৪ বছর। আগে এমন পরিস্থিতি কখনও হয়নি। যেভাবে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে বাজি তৈরি করে লাভ হচ্ছে না। আগে সুতলি দড়ি ৬০ টাকা কেজি দরে কিনলেও এখন তা ২৬০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আগে অ্যালুমিনিয়াম পাউডারের ৪০ কেজি বস্তা ১৫ হাজার টাকায় কেনা হত, এখন সেই বস্তার দাম ২২ হাজার টাকা। তুবড়ির খোল আগে যেখানে ৭-৮ টাকায় পাওয়া যেত, সেই খোল কিনতে হচ্ছে প্রায় ১৫ টাকায়। ফলে বাজি তৈরি করে লাভ হচ্ছে না।
সলিলবাবুর কথায়, কাঁচামালের দাম এতটাই বেড়েছে যে, আগামী দিনে আমাদের হয়ত বাজি তৈরি করাই ছেড়ে দিতে হবে। তবে ক্রেতাদের চাহিদা তো মেটাতে হবে! তাঁদের কথা ভেবেই ভিন রাজ্য থেকে বাজি কিনে এনে বিক্রি করতে হচ্ছে। এই কারখানার আরেক অংশীদার গুরুদাস সাউ বলেন, এখন ব্যবসার অবস্থা খুব খারাপ। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি নিম্নচাপের কারণে সেভাবে বাজি তৈরি করা যায়নি। সরকারি আইন মেনে সবুজ বাজি তৈরি করলেও দামের কারণে সেভাবে বিক্রি হচ্ছে না। অন্যদিকে, ক্রেতাদের বক্তব্য, যেভাবে প্রতি বছর বাজির দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, তাতে আগের মত বাজি কেনা সম্ভব হচ্ছে না।



