


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: এবার প্রাণিপালন ও পশুপাখির চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা! পোল্ট্রির উৎপাদন থেকে প্রাণিকূলের রোগ নির্ণয় এমনকী পশুপাখির জটিল অস্ত্রোপচার, এআই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সেরে ফেলা হবে সবটাই। এনিয়ে জার্মানির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে ভারত। প্রকল্পের অধীনে বাংলা সহ দু’দেশের সাতটি প্রাণিবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে চলবে গবেষণা।
ভারতীয় গবেষক-অধ্যাপকদের ১৪ জনের টিম ইতিমধ্যেই জার্মানি ঘুরে এসেছেন। আগামী ডিসেম্বরে সেদেশের গবেষকরা ভারতে আসছেন। বৈঠক করবেন দিল্লিতে। তারপরই পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে গবেষণার কাজ। এদেশের চারটি ও জার্মানির তিনটি প্রাণিবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে ওই গবেষণা চালাবে। সঙ্গে থাকবে ইন্ডিয়ান এগ্রিকালচার রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ইন্ডিয়ান ভেটেরিনারি রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও ন্যাশনাল ডেয়ারি রিসার্চ ইনস্টিটিউট। প্রকল্পে কার্যত নেতৃত্ব দিচ্ছে কলকাতার বেলগাছিয়ায় অবস্থিত রাজ্যের প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যার গবেষক-অধ্যাপক সিদ্ধার্থ জোয়ারদারকে প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর করা হয়েছে।
সোমবার সিদ্ধার্থবাবু বলেন, মূলত প্রাণী চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্র প্রসারিত করতে ভারত ও জার্মানি একযোগে কাজ করবে। এক্ষেত্রে প্রাণিপালন ও পশুপাখির চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ, অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁর দাবি, প্রাণিকূলের মধ্যে নতুন নতুন রোগ-জীবাণু বাসা বাঁধছে। চিকিৎসায় কখনও জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে। এক্ষেত্রে বিশেষভাবে কাজে লাগতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এ আই)। পশুপাখির জটিল রোগ নির্ণয় থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার, এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে সবটাই নিখুঁতভাবে সেরে ফেলা সম্ভব হবে।
বাংলা ছাড়াও প্রাণী চিকিৎসায় এআই প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে দু’দেশের যৌথ গবেষণার জন্য নির্বাচিত হয়েছে তামিলনাড়ুর ইউনিভার্সিটি অব ভেটেরেনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স, পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় অবস্থিত গুরু অঙ্গদদেব ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স ইউনিভার্সিটি এবং বিহারের এনিম্যাল সায়েন্স ইউনিভার্সিটি।
গত এপ্রিলে ভারতীয় প্রতিনিধি দল জার্মানির লিপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। ওই বিশ্ববিদ্যালয়টি গবেষণার কাজে জার্মানির তরফে নেতৃত্ব দিচ্ছে। সেখানে প্রথম বৈঠকে প্রাণিপালন ও প্রাণী চিকিৎসায় মেশিন লার্নিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। অধ্যাপক সিদ্ধার্থ জোয়ারদার একথা জানিয়েছেন। শুধু ল্যাবে বসে গবেষণা নয়, সমীক্ষার কাজ চলবে গ্রামেগঞ্জে ঘুরে। গবেষণার কাজে যুক্ত ভারতীয় পড়ুয়া ও অধ্যাপকরা যেমন জার্মানিতে যাবেন, তেমনই সেখানকার ছাত্রছাত্রী ও গবেষকরাও এখানে আসবেন। বিনিময় হবে অভিজ্ঞতা।