নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের তিনটি শাখায় কয়েক কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি মামলায় সিবিআইকে এফআইআর করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুধু তাই নয়, বছর তিনেক আগে অভিযোগ জানানোর পরও শহর কলকাতার ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক দুটির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিবিআই কেন পদক্ষেপ করেনি, তা নিয়ে সোমবার ভর্ৎসনার সুর শোনা গিয়েছে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের মন্তব্যে। দীর্ঘ সময় আগে অভিযোগ জানানো হলেও, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্মীদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার জন্য কেন রাজ্যের অনুমতির অপেক্ষায় সিবিআই? প্রশ্ন তুলেছে আদালত। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কোন কর্মী বা আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে রাজ্যের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। কী কী নথি, তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, তার উপরে বিশ্লেষণ করে এফআইআর করা হবে কি না, সিবিআই সিদ্ধান্ত নিক ।
Advertisement
মামলার বয়ান সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার বড়বাজার এলাকায় দুই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের তিনটি শাখা থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে কয়েক কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে ডি কে এন্টারপ্রাইজ নামে একটি সংস্থা। আর তাতেই আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। কর্মীদের জড়িত থাকার বিষয়টিও উড়িয়ে দিচ্ছে না ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। যে কারণে এই আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে ২০২২ সালের মার্চ মাসে সিবিআই এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি। কিন্তু পরের মাসে সিবিআই পাল্টা ব্যাঙ্কগুলিকে চিঠি দিয়ে জানায় এফআইআর করার ক্ষেত্রে রাজ্যের অনুমতির জন্য বিষয়টি মুখ্য সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘদিন কেটে গেলেও, বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ব্যাঙ্কগুলি।
এদিন সেই মামলায় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বক্তব্য, ব্যাঙ্কের টাকা তছরুপের অভিযোগে সেখানকার সরকারি কর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এই যুক্তিতে কেন সিবিআই রাজ্যের কাছে অনুমোদন চাইবে? রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে রাজ্যের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। বিচারপতির আরও বক্তব্য, ‘কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় অফিসারদের বিষয়ে এফআইআর’এ রাজ্যের অনুমোদন নিষ্প্রয়োজন। বিনয় মিশ্র মামলায় এই বিষয়ে আগেই স্পষ্ট করেছে আদালত। সিবিআই বনাম সতীশ কুমার মামলাতেও সুপ্রিম কোর্ট এই নিয়ে নির্দেশ দিয়েছে।’
যদিও সিবিআইয়ের তরফে আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার বলেন, ‘সিবিআই এফআইআর করল, আর কাল ব্যাঙ্ক বলল, এটা দুর্নীতির মামলা নয়, তখন কী হবে? সেই জটিলতার জন্যই সিবিআই আটকে রয়েছে।’ তিনি স্বীকার করে নেন, ‘এমনিতেই সিবিআইয়ের মামলার চাপ বেশি, সেই তুলনায় লোক কম। কোর্ট অর্ডার দিলে আমাদের কোনও সমস্যা নেই।’
এরপরই নির্দেশে বিচারপতি জানিয়ে দেন, এফআইআর করার আগে সিবিআই প্রাথমিক অনুসন্ধান করে ব্যাঙ্কগুলিকে পাঠাবে। তাদের যদি কোনও আপত্তি থাকে, তা তারা সিবিআইকে জানাতে পারবে। তা না থাকলে দ্রুত সিবিআই এফআইআর করবে। এ দিন সিবিআইয়ের ডিআইজি দুটি মামলার স্টেটাস রিপোর্ট আদালতে জমা দেন। এরপরই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা নির্দেশ দেন বিচারপতি।
এদিন সেই মামলায় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বক্তব্য, ব্যাঙ্কের টাকা তছরুপের অভিযোগে সেখানকার সরকারি কর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এই যুক্তিতে কেন সিবিআই রাজ্যের কাছে অনুমোদন চাইবে? রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে রাজ্যের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। বিচারপতির আরও বক্তব্য, ‘কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় অফিসারদের বিষয়ে এফআইআর’এ রাজ্যের অনুমোদন নিষ্প্রয়োজন। বিনয় মিশ্র মামলায় এই বিষয়ে আগেই স্পষ্ট করেছে আদালত। সিবিআই বনাম সতীশ কুমার মামলাতেও সুপ্রিম কোর্ট এই নিয়ে নির্দেশ দিয়েছে।’
যদিও সিবিআইয়ের তরফে আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার বলেন, ‘সিবিআই এফআইআর করল, আর কাল ব্যাঙ্ক বলল, এটা দুর্নীতির মামলা নয়, তখন কী হবে? সেই জটিলতার জন্যই সিবিআই আটকে রয়েছে।’ তিনি স্বীকার করে নেন, ‘এমনিতেই সিবিআইয়ের মামলার চাপ বেশি, সেই তুলনায় লোক কম। কোর্ট অর্ডার দিলে আমাদের কোনও সমস্যা নেই।’
এরপরই নির্দেশে বিচারপতি জানিয়ে দেন, এফআইআর করার আগে সিবিআই প্রাথমিক অনুসন্ধান করে ব্যাঙ্কগুলিকে পাঠাবে। তাদের যদি কোনও আপত্তি থাকে, তা তারা সিবিআইকে জানাতে পারবে। তা না থাকলে দ্রুত সিবিআই এফআইআর করবে। এ দিন সিবিআইয়ের ডিআইজি দুটি মামলার স্টেটাস রিপোর্ট আদালতে জমা দেন। এরপরই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা নির্দেশ দেন বিচারপতি।



