প্রীতেশ বসু, কলকাতা: অনিয়মের অভিযোগ তুলে একাধিক প্রকল্প খাতে রাজ্যের ন্যায্য প্রাপ্য আটকে রেখেছে কেন্দ্র। সেই তালিকায় রয়েছে ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা ইত্যাদি প্রকল্প। তবে রাজ্য সরকার আগাগোড়া দাবি করে এসেছে, রাজনৈতিক কারণেই বাংলার জন্য বরাদ্দ আটকে রেখেছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। নবান্নের এই দাবিতেই এবার কার্যত সিলমোহর দিল কেন্দ্র নিজে! কেন্দ্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলির টাকা ছাড়ার ক্ষেত্রে সব রাজেই ‘জাস্ট ইন টাইম’ পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করেছে মোদি সরকার। সেখানে দেখা যাচ্ছে, তথাকথিত ‘ডবল ইঞ্জিন’ রাজ্যগুলিকে পিছনে ফেলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারই প্রথম কার্যকর করেছে এই নিয়ম। সেই সঙ্গে দিয়েছে স্বচ্ছতার বার্তাও। তাই চলতি অর্থবর্ষে স্বচ্ছ ভারত মিশন প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা পেল একমাত্র বাংলা। মঙ্গলবারই রাজ্যকে এ সংক্রান্ত বার্তা পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের অংশ মিলিয়ে কেন্দ্রীয় সাহায্যপ্রাপ্ত এই প্রকল্পের প্রথম কিস্তিতে ৩৯৬.২৫ কোটি টাকা অনুমোদিত হয়েছে। এই টাকার ৭৫ শতাংশ ফেব্রুয়ারির মধ্যে খরচ করে পরবর্তী কিস্তির টাকা চাওয়ার লক্ষ্যমাত্রাও ধার্য করে ফেলেছে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা পঞ্চায়েত দপ্তর।
Advertisement
‘জাস্ট ইন টাইম’ পদ্ধতিটি ঠিক কী? এর আগের নিয়মে প্রকল্পের টাকা সরাসরি রাজ্যগুলি হাতে পেত। সেই টাকা জমা রাখা হতো রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রকল্পভিত্তিক নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। ‘জাস্ট ইন টাইম’ নিয়মে প্রকল্পের টাকা দপ্তরের খোলা অ্যাকাউন্টে না পাঠিয়ে রাখা থাকবে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কে। প্রয়োজন মতো সেখান থেকেই ছাড়া হবে টাকা। রাজ্যের ট্রেজারি হয়ে তা জমা পড়বে উপভোক্তা বা প্রাপকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। রাজ্য অর্থদপ্তর বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে বাংলায় ‘জাস্ট ইন টাইম’ বা ‘এসএনএ-স্পর্শ’ পদ্ধতি চালু করেছে। সূত্রের খবর, অন্য কোনও রাজ্য এখনও এই পদ্ধতি চালু করতে পারেনি। এভাবে রীতিমতো নজির তৈরি করায় বিশেষ ইনসেনটিভও পেতে পারে বাংলা। এই প্রেক্ষিতে পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের কটাক্ষ ‘কেন্দ্র তো বিরোধী রাজ্যের দিকে আঙুল তুলতে অভ্যস্ত। কিন্তু তাদের ডবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলি দুর্নীতি করতে পারবে না বলেই কি জাস্ট ইন টাইম চালু করতে দেরি করছে?’
স্বচ্ছ ভারত মিশনের ৬০ শতাংশ টাকা দেয় কেন্দ্র। বাকি ৪০ শতাংশ খরচ রাজ্যের। এই প্রকল্পকে পশ্চিমবঙ্গে নির্মল বাংলাও বলা হয়। এই খাতে বিগত দু’টি অর্থবর্ষে ২৫০০ কোটি টাকা পেয়েছে রাজ্য। খরচের হিসেবও সময়মতো কেন্দ্রকে পাঠিয়ে অতিরিক্ত কিস্তিও পেয়েছে বাংলা। সেই ধারা অব্যাহত রাখতে চায় নবান্ন। তাই বুধবার সকালে প্রত্যেক জেলাকে এই খাতে প্রস্তাবিত কাজের তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে দ্রুত। কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন সহ একাধিক কাজ হওয়ার কথা রয়েছে এই টাকায়।
স্বচ্ছ ভারত মিশনের ৬০ শতাংশ টাকা দেয় কেন্দ্র। বাকি ৪০ শতাংশ খরচ রাজ্যের। এই প্রকল্পকে পশ্চিমবঙ্গে নির্মল বাংলাও বলা হয়। এই খাতে বিগত দু’টি অর্থবর্ষে ২৫০০ কোটি টাকা পেয়েছে রাজ্য। খরচের হিসেবও সময়মতো কেন্দ্রকে পাঠিয়ে অতিরিক্ত কিস্তিও পেয়েছে বাংলা। সেই ধারা অব্যাহত রাখতে চায় নবান্ন। তাই বুধবার সকালে প্রত্যেক জেলাকে এই খাতে প্রস্তাবিত কাজের তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে দ্রুত। কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন সহ একাধিক কাজ হওয়ার কথা রয়েছে এই টাকায়।



