নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান ও কলকাতা: নেটওয়ার্ক। হানিট্র্যাপেরও! জঙ্গি হামিম মণ্ডল গ্রেপ্তারের পর তদন্তে নেমে এই তথ্যই হাতে আসছে গোয়েন্দাদের। কারণ তাঁরা জানতে পারছেন, অর্পিতার উপর ভার ছিল গোটা দেশে টাকার টোপ দিয়ে এবং মগজধোলাই করে যুবতীদের নেটওয়ার্ক তৈরির। যেখানে যেমন প্রয়োজন হবে, সেভাবে যেন ‘হানিট্র্যাপ’ ব্যবহার করা যায়। সেই মতো অর্পিতা ইনস্টাগ্রামে বন্ধুত্ব করত তরুণীদের সঙ্গে। আলাদা একটি গ্রুপও তৈরি করেছিল সে। নিত্য মগজধোলাই চলত সেখানে। বিপুল টাকার লোভে বেশ কয়েকজন যুবতী এই হানিট্র্যাপ গ্যাংয়ে যোগ দিয়েছিল বলেই জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। যদিও পুরো বিষয়টা নিয়ন্ত্রণ করত ভাট্টি নেটওয়ার্ক। ইনস্টাগ্রাম সহ অর্পিতার বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাট ঘেঁটে এই তথ্য পাচ্ছেন গোয়েন্দারা। তাঁরা জানতে পারছেন, এই ‘গ্রুপে’র যুবতীরা ভাট্টি গ্যাংয়ের পাশাপাশি আইএসআইয়ের হয়েও কাজ শুরু করে দিয়েছে।
অর্পিতার ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল ঘেঁটে তদন্তকারীরা জেনেছেন, কারও কাছে সে টিনা, আবার কারও কাছে সে অর্পি নামে পরিচত ছিল। ইনস্টাগ্রামে তার নিজের নামে একটিই অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেই প্রোফাইলে লেখা রয়েছে ‘জয় শ্রীরাম। ধর্ম রক্ষতি রক্ষিত’। তদন্তকারী এজেন্সির নজর এড়াতে বেনামে সাত থেকে আটটি অ্যাকাউন্ট খোলে সে। সোশ্যাল মিডিয়ার সমস্ত প্ল্যাটফর্মে অর্পিতা সক্রিয় ছিল। তবে, পাকিস্তানের ‘বস’দের সঙ্গে কথা বলতে সে এবং হামিম ব্যবহার করত ‘ডার্ক ওয়েব’ এবং বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড অ্যাপ। সেখানে বিভিন্ন ধরনের ‘টাস্ক’ দেওয়া হতো। এর জন্য গ্রুপ কল করত তারা। এই কথোপকথন বিশ্লেষণ করে অন্তত হাফডজন ভারতীয় রাজনৈতিক নেতার নাম পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের সে হানিট্র্যাপে ফেলেছিল। আইএসআইয়ের নির্দেশ মতো সে বিভিন্ন গোপন তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা করছিল। এছাড়া রাজ্যসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পুলিশের বেশ কয়েকজন পদাধিকারীকে সে টার্গেট করেছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, টার্গেট ফিক্স করার পর তাদের খতম করার জন্য অস্ত্র জোগাড় করতে বলা হয়েছিল পাকিস্তান থেকে। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়, ভাট্টি গ্যাংয়ের পাঞ্জাব ও দিল্লির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অস্ত্র জোগাড় করতে হবে। কারণ, তাদের কাছে পাকিস্তান থেকে অস্ত্র এসে গিয়েছে বলে জেনেছেন গোয়েন্দারা। সেই ‘কাজ’ হামিম-অর্পিতা শুরুও করে দিয়েছিল।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, অর্পিতা প্রায়ই পার্টির আয়োজন করত। ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে গিয়েও সে পার্টি করেছে। বাদ যায়নি কলকাতা বা দীঘার মতো স্পটও। আরও কয়েকটি রাজ্যে তার গতিবিধি ছিল বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। সেখানেই ‘মিটিং’ হয়েছে নতুন সদস্যদের সঙ্গে। অর্পিতা এবং হামিম এ রাজ্যে যাদের নিয়োগ করেছিল, তাদের নাম গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন। তারাও এখন রয়েছে নজরে। অর্পিতার এক বান্ধবী বলেন, ‘বিগত দু’বছরে তার জীবনযাপন বদলে গিয়েছিল। দেদার টাকা খরচ করত। জিজ্ঞেস করলে বলত, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ করে। এছাড়া ফটোগ্রাফি এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকেও আয় হয়।’