ভোপাল: সম্প্রতি ভাঁড়ারে নাকি খুব টান পড়েছে। তাই ব্যয় কমাতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশ সরকার। মন্ত্রী-আমলাদের বিদেশ ভ্রমণে রাশ টানা হচ্ছে। সরকারি অনুষ্ঠানে বিলাসবহুল হোটেল সহ নানারকমের খরচেও কাটছাঁট করা হয়েছে। এরইমাঝে সর্ষের মধ্যে বেরল ভূত। অভিযোগ, সেরাজ্যে বাজেট বণ্টনের ক্ষেত্রেই লুট হয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। সুযোগ বুঝে কোটি কোটি টাকা চেটেপুটে সাফ করে দিয়েছেন সরকারি কর্মীরা। কোথাও ভুয়ো বিল দেখিয়ে টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। কোথাও আবার একই কাজের জন্য দু’বার টাকা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, টাকা হাতিয়ে স্ত্রী- আত্মীয়দের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছেন সরকারি কর্মচারীরা। সেই টাকায় দেদার কেনা হয়েছে সম্পত্তি। আবার কেউ কেউ আবার স্রেফ জুয়া খেলে, মৌজমস্তিতে উড়িয়ে দিয়েছেন টাকা। এই অভিযোগ সামনে আসতেই সরব কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি। মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা কমল নাথের কটাক্ষ, রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকার অযোগ্য। সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত। এমনকী আধিকারিক, কর্মচারীরাও এই সরকারকে পাত্তা দেয় না। একটুও ভয় পায় না।
ডিরেক্টরেট অব ট্রেজারিজ অ্যান্ড অ্যকাউন্টসের অধীনস্ত স্টেট ফিনান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স সেলের তদন্তে এই বড়োসড়ো দুর্নীতির পর্দাফাঁস হয়েছে। এপর্যন্ত ৪০০ জনের বেশি কর্মীর বিরুদ্ধে ৫৯ এফআইআর দায়ের হয়েছে। তদন্তকারীদের আতশকাঁচের তলায় স্কুলশিক্ষা, রাজস্ব, পুলিশ, স্বাস্থ্য সহ ২৪টি দপ্তর। বেশ কয়েকটি মামলার তদন্ত করছে ইডি ও আর্থিক দুর্নীতি দমন শাখা।
জানা গিয়েছে, সরকারি অর্থ প্রদানে ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্ম ‘ইন্টিগ্রেটেড ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে’র মাধ্যমে গত পাঁচ বছরে বহু অনিয়ম হয়েছে। এপর্যন্ত ১৯৯টি সন্দেহজনক লেনদেন চিহ্নিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোষাগার থেকে সরকারি আধিকারিক ও কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে প্রায় ৩০৫ কোটি টাকা। অভিযুক্তদের স্ত্রী-আত্মীয়দের অ্যাকাউন্টেও টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কোষাগারের পার্সোনাল ডিপোজিট অ্যাকাউন্টে ২৯৩ কোটি জমা রাখার কথা ছিল। সেই টাকাও অন্য অ্যাকাউন্টে সরানো হয়েছে। ডুপ্লিকেট এমপ্লয়ি কোড তৈরির পাশাপাশি লগইন পাসওয়ার্ড শেয়ার করার অভিযোগ উঠেছে। এমনকী নথিভুক্ত মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করা হয়েছিল। যাতে টাকা লেনদেনের ওটিপি অন্য নম্বরে যায়। আর কেউ টের না পায়।
এর ফলে রাতারাতি ফুলেফেঁপে উঠেছেন সরকারের উপর থেকে নীচু স্তরের আধিকারিকরা। কমল রাঠোর নামে এক প্রাক্তন ব্লক শিক্ষা আধিকারিক ২০ কোটি আত্মসাৎ করেন। আর সেই টাকায় বালাজি ধাম নামে একটি কলোনি গড়ে তুলেছেন তিনি। ইডি তাঁর ৫৬টি প্লট অ্যাটাচ করেছে। রিপুদামন সিং নামে এক সাধারণ সংশোধনাগার রক্ষী মাসে প্রায় ৪ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা বেতন তুলতেন। যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারী আধিকারিকদের।