Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

আরামবাগের গোসাঁই পরব

আরামবাগের গোসাঁই পরব
  • ২০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সালটা ২০২০। গোটা দেশেই ধর্ম নিয়ে বাজার গরম। মানবতার বিশ্বাসে আরও তীব্র আঘাত হানছে ধর্মীয় মৌলবাদ। তখন একঝাঁক যুবক-যুবতীর মধ্যে জন্ম নিল ধর্মীয় গোঁড়ামি ভাঙার অদম্য জেদ। সেই থেকে আরামবাগে শুরু হয় ‘আন্তর্জাতিক গোঁসাই পরব’। হিংস্র ধর্মের কারবারিদের ‘ব্যবসা’ ভেঙে চুরমার করে দিতে পারে কেবল বাউল দর্শন। এমনই ধারণা আয়োজনের মূল উদ্যোক্তাদের। সেই শুরু হল পরব। দেখতে দেখতে এবার তা ছ’বছরে পা দিল। আগামী ২২-২৬ জানুয়ারি একতারার সুরে সহজ জীবনসাধনা ও সম্প্রীতির গান বেজে উঠবে। ‘জাত গেল জাত গেল বলে...’, ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি...’ এমন নানা গানে গলা মিলিয়ে ভেদাভেদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন আরামবাগের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ। বসন্তপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন মাঠে মূল মঞ্চ ও আখড়াগুলিতে গান গাইবেন বাউল শিল্পী অনন্ত দাস গোঁসাই, বীরভূমের জয়দেব কেন্দুলির অনাথবন্ধু ঘোষ, অসমের মহামায়া বাউল, জাপানের কাজুমি ফোকা জোয়ার মতো দেশবিদেশের বহুশিল্পী। সকাল থেকে রাত একতারার সুরে তাঁরা গাইবেন মানব প্রেমের গান। মেলায় পা রাখলেই মনে হবে এটা ছোট্ট একখানা গ্ৰাম। দেওয়ালজুড়ে ফুটিয়ে তোলা হয় মিথিলার জ্যামিতিক শৈলির আলপনা ও ভারতীয় সঙ্গীতের অঙ্গ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের ছবি। মানবমঞ্চ তৈরি করা হয়েছে গাছের গুঁড়ি ও শালপাতা দিয়ে। মেলার মাঠের প্রবেশদ্বার তৈরি হয় একতারা ও দোতারার আদলে। এবার পরবে বাংলার ১৯টি জেলার লোকশিল্পীরা তাঁদের হাতের তৈরি জিনিসপত্রের পসরা নিয়ে আসেন বলে জানা গিয়েছে। 
Advertisement
গোঁসাই পরব শুধু মেলা নয়, এখানে জাতি, বর্ণ, ধর্ম নির্বিশেষে মিলন ও মৈত্রীর কারখানা। যে মিলনের সুর বাঁধবেন বাউল ও ফকির শিল্পীরা। তাঁদের গান ঘৃণা, বিদ্বেষ, অসত্যের বিরুদ্ধে চিরকাল বেজে উঠেছে। পরব কমিটির সদস্যরাই তৈরি করেন মাঠ থেকে সাজানোর কাজ। তাঁরাই পাড়ায় পাড়ায়, কখনও ট্রেন-বাসে প্রচার করেন।
সম্পর্কিত সংবাদ